জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
10

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ মোকাবেলায় ঢাকায় (১০ জুন) দু’দিনব্যাপী জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন এর (জিপিএ) বৈঠকে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিস্তৃতি এবং এর প্রভাব প্রশমনে নিজেদের সক্রিয় উদ্যোগ সম্পর্কে আরো সচেতন হতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি এ প্রসংগে আরো বলেন-বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও অর্থায়নের যুগে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে যা সকলে সহজে কাজে লাগাতে পারে। তথাপি আমি বলতে চাই অভিযোজনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে জন্য সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অভিযোজন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। জলবায়ু পরিবর্তনে সারাবিশ্বই এখন ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে। বিশেষত: এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পরিস্থিতি হয়ে পড়বে আশংকাজনক। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে যে সচেতন মনোভাব তৈরি হচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। তবে এর জন্য যাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি সেই শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি পিছিয়ে থাকে তবে আশা করেও খুব একটা বেশি লাভ হবে না। উন্নত দেশগুলো যদি শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা না ভেবে পুরো বিশ্বের কথা ভাবে। তবে এখনো সম্ভব জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা। সম্ভব সবুজ এ গ্রহটির বৈচিত্র্যময় জীব এবং জীবিকার উপায়কে বাঁচিয়ে রাখা। ধনী দেশগুলোর কার্বন ডাই অঙাইড নির্গমনে যে হারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে তার বিপরীতে দরিদ্র দেশগুলো সামান্য অর্থ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। তাই ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য দায়ী দেশগুলোর উচিত বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া। কারণ প্রতি বছর গরীব এ দেশগুলোকে বাজেটের একটি বড় অংশ অর্থ খরচ করতে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘের আইপিসিসি রিপোর্টে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে দায়ী করা হয়েছে। কিয়োটা চুক্তি অনুযায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রীণ হাউজ নির্গমন কমানোর কথা থাকলেও তারা তা করেনি। সর্বোচ্চ গ্রীণ হাউজ গ্যাস নির্গমনকারী দেশ আমেরিকা কিয়োটা প্রটোকল থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। কার্বন ডাই অঙাইড নির্গমনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী আমেরিকা, জাপান, জার্মানি, কানাডা, চায়না, বৃটেন, অষ্ট্রেলিয়াসহ শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি নিয়ন্ত্রণ করতে আন্তরিক না হয়, তাহলে সম্মেলন আর চুক্তি অর্থহীনই থেকে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া এখন বিরূপ আচরণ শুরু করেছে। বেড়ে গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বারবার। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমাগত লবণাক্ত পানি ঢুকছে। এতে জমির উর্বরতা কমছে। জাতিসংঘের আইপিসিসি রিপোর্ট অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করে ধনী দেশগুলো বেঁচে থাকতে পারলেও গরীব দেশগুলো পারবে না। কারণ উন্নত দেশগুলোর কাছে পর্যাপ্ত সেফটি ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং তারা সময়মত লোকজন সরিয়ে নিতে পারে। এসব ব্যবস্থা গরীব দেশগুলোর নেই। তাই জল বায়ু পরিবর্তন রোধে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন উন্নত দেশগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করা। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকাই প্রধান। আমরা আশা করবো, উন্নত দেশগুলোকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘ তার ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
এম এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x