জমিয়তুল ফালাহতে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

অংশ নেন রাজনীতিক ব্যবসায়ী সাধারণ মুসল্লিরা

আজাদী অনলাইন

বুধবার , ২২ আগস্ট, ২০১৮ at ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
380

নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২২ আগস্ট) সকালে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের নামাজ আদায় করতে সেখানে উপস্থিত হন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

পৌনে ৮টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতের ইমামতি করেন খতিব সৈয়দ আবু তালেব মো. আলাউদ্দিন আল কাদেরী। সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক। নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেন খতিব সৈয়দ আবু তালেব মো. আলাউদ্দিন আল কাদেরী। বাংলানিউজ

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুসলিম উম্মার ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে পথ চললে ঐক্য এবং শান্তি আসবেই। হযরত ইব্রাহিম (আ.) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজ সন্তান হযরত ঈসমাঈল (আ.) কে কোরবানি দিতে গিয়ে ত্যাগের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের অনুসরণ করতে হবে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যেভাবে আমাদের জীবনকে পরিচালিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে চলতে হবে।’

ঈদের জামাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের সমাগম ঘটে।

প্রথম ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)-এর ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ও সাধারণ মুসল্লিরা।

নামাজ শেষে প্রবীণ রাজনীতিক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। আমরা চাই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক। সামনে নির্বাচন। সরকারের বাইরে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি-শক্তি সবাই চায় যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে। জনগণ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য দেশে নির্বাচনকালীন সরকার চাই। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শান্তি বজায় থাকবে।’

ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ সর্বজনীন। ঈদকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটিই আমাদের সবার লক্ষ্য।’

এবার সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ১৬৫টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আজহার জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদ জামাতে প্রবেশের তিনটি পথে বসানো হয় আর্চওয়ে গেইট। সাদা পোশাকে দায়িত্বে ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, ‘ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে পুলিশের সতর্ক অবস্থান ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মুসল্লিদের জামাতস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে তল্লাশি করে।’

নামাজ আদায়ের পরপরই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে নগরীর বিভিন্ন অলি-গলি, রাস্তায়-মাঠে, বাসা-বাড়ির সামনে পশু কোরবানি শুরু হয়। আর কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সকাল থেকে প্রস্তুত ছিল সিটি কর্পোরেশনের সেবক ও গাড়ি।

ঈদ উপলক্ষে নগর ভবনসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, এতিমখানা এবং জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

x