জনশক্তি রপ্তানি : সংকট দূরীকরণে উদ্যোগী হতে হবে

সোমবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
29

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় আসার পর নয় বছরে প্রায় ৫২ লাখ কর্মীর বিদেশে চাকরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, বর্তমান সরকার দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশক্তির বাজার খোঁজার নির্দেশ দিয়েছে। আর এর সুফল মিলছে। আর জনশক্তি রপ্তানিতে সরকার যেমন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তেমনি দেশে শ্রমিকদের ভাষা থেকে শুরু করে নানা কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ করে তুলছে। অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ শ্রমিকের মজুরিও বেশি হয়।

২০১৭ সালে বিএমইটির আওতায় পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও আইএমটিসমূহে দক্ষতা উন্নয়ন (ডিপ্লোমাইনমেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, এসএসসি ভোক, দুই বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট ইন মেরিন ট্রেড ও অন্যান্য স্বল্পমেয়াদী কোর্স), হাউজকিপিং কোর্স ও প্রাকবহির্গমন প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বমোট ৭ লাখ ৪২ হাজার ৫১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে আমরা পরিষ্কার যে সরকার জনশক্তি রপ্তানি খাতকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতের যে কোনো সময় থেকে এখন অনেক সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে কর্মী প্রেরণ করা হয়। এর পরও এই খাতের সঙ্গে যারা জড়িত তারা পরামর্শ গ্রহণ করে আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক বলে মনে করছি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে ‘চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে ধস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে এই অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ২৪ হাজার ১৭৫ শ্রমিক, যা গত বছরের এসময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার ২১২ জন কম। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের শ্রম বাজার প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে যে পরিমাণ শ্রমিক গেছে সেটি এবার এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এছাড়া কমেছে ওমান, কাতার ও কুয়েত, বাহরাইন ও মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকের সংখ্যাও।’ অন্যদিকে গত ২রা জানুয়ারি আজাদীতেই প্রকাশিত হয়েছিল ‘জনশক্তি রপ্তানি খাতে গতি’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছিল, ‘জনশক্তি রপ্তানিতে আরো এক ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম। গত বছর এই অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ৫৭ হাজার ৭৬৩ জন শ্রমিক, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার বেশি। নিকট অতীতে এতো জনশক্তি আর কখনো রপ্তানি হয়নি।’ আট মাসের ব্যবধানে জনশক্তি রপ্তানির চিত্র এভাবে পরিবর্তিত হবে, তা কেউ আশা করে নি। এই সংকট অবশ্যই দূর করতে হবে।

আমরা জানি, বাংলাদেশি কর্মীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। প্রবাসে তাদের সুনাম রয়েছে এবং সারা বিশ্বে তাদের চাহিদা বেশি। এখনো এক কোটি জনশক্তির চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন দেশে। এগুলোতে আমাদের কর্মীদের পাঠাতে হলে প্রয়োজন যথাযোগ্য মার্কেটিং। প্রত্যেক ব্যবসায় একটি মার্কেটিং ও সেলস টিম থাকে। গবেষণা হয় বাজার নিয়ে, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নেই। সরকারি দপ্তরগুলো রুটিন কাজ করলেই হবে না। সমস্যার জন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী নন। একটি সুষ্ঠু পরিচালনার নীতির অভাব। যাদের দ্বারা দেশ উন্নতি করছে, তাদের প্রতি আমরা কতটা দায়িত্বশীল।

জনশক্তি রপ্তানিতে যে সকল সংকট রয়েছে, সেগুলোর দূরীকরণে উদ্যোগী হতে হবে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, ভিসা বেচাকেনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিতে হবে। অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে। এসবে প্রশাসনের দক্ষতার অভাব রয়েছে। অভিবাসীদের ফাইল অনুমোদনে যেন সময়ক্ষেপণ না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের আরও যুগোপযোগী নীতিগ্রহণ করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানে সরকারকে অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। তার অফিস আছে কিনা, তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে কিনা! অন্তত দেশি প্রতিষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে তার পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। নয়তো নতুন একজন লাইসেন্স নিয়ে সে অন্যের তৈরি করা মার্কেটে গিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে। এ খাতে সমস্যা সৃষ্টি করে। যে সব খাতে যেমন তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা, হসপিটালিটিসহ যেগুলোয় দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এমন দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে কারা কর্মী প্রেরণ করতে পারবে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া দরকার।

x