ছেলে ধরা সন্দেহে রোহিঙ্গাসহ দুই নারীকে পুলিশে দিল জনতা

সীতাকুণ্ড ও মহেশখালী প্রতিনিধি

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
89

ছেলে ধরা সন্দেহে রোহিঙ্গাসহ দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। গতকাল শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড সলিমপুরের বাংলা বাজার ও মহেশখালীর কালারমারছড়া এলাকায় পৃথক এঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে রেহেনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সলিমপুরের বাংলা বাজার এলাকায় এঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আরফাতুল ইসলাম সিফাত (৫) নামের শিশুটি ঘরের বাইরে খেলা করার সময় এক মহিলা কোলেতুলে নাকে চেতনানাশক ওষুধ লাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় দোকানদার বিষয়টি দেখে ফেলে এবং মহিলাটিকে ধাওয়া করলে শিশুটিকে ফেলে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে ওই নারী। এসময় লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সিফাত নোয়াখালীর সুবর্ণচর থানার জাহাজ মারা গ্রামের সজল ইসলাম ও পারুল আক্তারের পুত্র। তারা দীর্ঘদিন সলিমপুরের বাংলাবাজারের পুরাতন দাইয়া বাড়ির আলমগীরের ভাড়া বাসায় বাস করছেন।
আটককৃত রেহানার স্বামীর নাম হারুন, পিতার নাম ইউনুচ মিয়া, সাং আলীপুর বলে জানায়। তবে সে বিস্তারিত ঠিকানা বলেনি। ধারণা করা হচ্ছে সে রোহিঙ্গা নারী। ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট রফিক আহমেদ মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলে ধরার প্রমাণ পেলে ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মহেশখালী প্রতিনিধি জানান, ছেলেধরা সন্দেহে আয়েশা বেগম (৪০) নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালারমারছড়া ইউপিস্থ চালিয়াতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই নারী চালিয়াতলী চিতাখোলা নামক স্থানে ৬/৭ বছরের এক ছেলেকে পাকড়াও করে গলা টিপে ধরে। এক পর্যায়ে ছেলেটির গলায় নখ দিয়ে মারাত্মক আঘাত করলে ওই ছেলেটি চিৎকার করে। তার চিৎকারে অদূরে থাকা লোকজন এগিয়ে গেলে ওই নারী পালাতে চেষ্টা করে। এসময় জনতা তাকে ধরে আটকে রাখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী নিজেকে রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেয়। সে মংডু থানা গোজবিল ইউনিয়নের ঘোয়াইন মাঙ্গালা গ্রামের সৈয়দ আলীর স্ত্রী। গতপরশু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকে মাতারবাড়িতে আসে তার এক ভাইয়ের খোঁজে বলে জানায় সে।
এব্যাপারে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিটন সিংহ বলেন, তদন্ত করে ওই নারীর বিরুদ্ধে ছেলে ধরার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x