ছেলের প্রতি সমর্থন দেখাতে দেশের ভেতর সফরে সৌদি বাদশা

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
25

ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের প্রতি নিজের সমর্থনের বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়েই সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল সফরে বেরিয়েছেন বাদশা সালমান। তুরস্কের সৌদি কনসুলেটের ভেতর গত মাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর যে আন্তর্জাতিক চাপ ও সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বাদশার এ সফর করছেন। খবর বিডিনিউজের।
অভ্যন্তরীণ এ সফরের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার সালমান ও মোহাম্মদ মধ্যাঞ্চলীয় আল-কাসিম প্রদেশে পৌঁছালে সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিশুরা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানায়। বাদশার আগমন উপলক্ষে কাসিমের সড়কগুলোতে সারি করে লাগানো হয় সৌদি আরবের পতাকা; স্থান পায় বাদশা ও ক্রাউন প্রিন্সের বড় বড় ছবিও।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, কাসিম সফরে সালমান বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১১২ কোটি ডলার। বাদশার সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে কট্টর রক্ষণশীল এ প্রদেশটির কারাগার থেকে বেশকিছু বন্দিকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
৮২ বছর বয়সী সালমানের সামপ্রতিক এ জনসমক্ষে আসার প্রধান কারণ ছেলের প্রতি সমর্থন দেখানো, বলছেন পর্যবেক্ষকরা। সৌদি আরবের প্রতিদিনের শাসনকাজের প্রায় সবকিছুই ক্রাউন প্রিন্স দেখভাল করলেও খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোহাম্মদের ভাবমূর্তি এখন অনেকটাই তলানিতে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্সই খাশোগি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি তুরস্কের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাংবাদিক হত্যার নৈতিক দায় মোহাম্মদের ওপরই বর্তায়, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। অক্টোবরের ওই ঘটনার পর পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে। কনসুলেটের ভেতর সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় পশ্চিমারা রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনও বয়কট করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠে নামতে হয় বাদশা সালমানকেই। তুরস্কের সঙ্গে কথা বলতে নিজের এক বিশ্বস্ত উপদেষ্টাকে দেশটিতে পাঠান তিনি। খাশুগজি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায় এসপিএ; বরখাস্ত করা হয় মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ এক সহচরসহ উর্ধ্বতন ৫ সৌদি কর্মকর্তাকে। কয়েক সপ্তাহ আড়ালে থাকার পর সামনে আসেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও। ২৫ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে খাশোগি হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। সমপ্রতি ইয়েমেন সীমান্তের কাছে মোতায়েন করা সৈন্যদের সঙ্গেও মোহাম্মদ দেখা করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

x