ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামবে কক্সবাজারে

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
124

এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতেও দেশের প্রধান অবকাশযাপন কেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারে বেড়াতে আসার জন্য ঈদের পরদিন থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রায় এক লাখ পর্যটক শহরের হোটেল-মোটেলে আগাম কক্ষ বুকিং করেছে। তবে এখনও খালি রয়েছে প্রায় অর্ধেক কক্ষ। দেশব্যাপী ডেঙ্গু আতংক ও টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এবার তুলনামূলক আগাম বুকিং কম হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে আগাম বুকিং কম হলেও এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতেও প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
কক্সবাজারে ঈদের পরদিন থেকে লক্ষাধিক পর্যটকের ঢল নামবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে দোকান মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে চলছে এখন জোর প্রস্তুতি। গতকাল শনিবার শহর ও সাগরপাড়ের হোটেল-মোটেল ও বিপণী কেন্দ্রগুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বার্মিজ মার্কেট ও সাগরপাড়ের ব্যবসায়ীদের জোর প্রস্তুতি চলছে। গত কয়েক দিন ধরে সংস্কার-চুনকামের পর হোটেল ও দোকানগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। দোকানে তোলা হচ্ছে নতুন মালামাল। হোটেলের কক্ষে কক্ষে লাগানো হচ্ছে নতুন পর্দা, টেবিল ক্লথ ও বেডশিট। ট্যুর অপারেটরদের মাঝেও চলছে প্রস্তুতি।
কক্সবাজারের হোটেল মালিকদের মতে, প্রতিবছর দুই ঈদ ছাড়াও থার্টিফার্স্ট’র ছুটিতে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। এসময় হোটেল-মোটেলে রুম খালি পাওয়া হয় দুষ্কর। তবে গত কয়েক বছরে শহরে এবং শহরের বাইরে সমুদ্র তীরবর্তী উপ-শহরগুলোসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে বেশ কিছু নতুন হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস চালু হওয়ায় কক্সবাজারে আগের মত থাকার সংকট নেই। বর্তমানে কক্সবাজার শহরেই রয়েছে চার শতাধিক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস। এখানে প্রতিদিন সোয়া লাখ পর্যটকের থাকার সুবিধা রয়েছে।
তবে এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসার জন্য ঈদের পরদিন থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রায় এক লাখ পর্যটক হোটেলে আগাম রুম বুকিং দিয়েছেন বলে কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন (টোয়াক বাংলাদেশ) এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান। এছাড়া বুকিং ছাড়াই আরো কয়েক লাখ পর্যটক এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে বেড়াতে আসবেন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অধিকাংশ পর্যটকই ২/৩ দিন জন্য কক্সবাজারে আসেন। তবে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সুযোগ থাকলে আরো দুয়েকদিন তারা কক্সবাজারে কাটাতেন। এরপরও শহরের সাগরপাড়ের অভিজাত হোটেলগুলোতে ঈদের পরদিন থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রায় আশি ভাগ
কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার সী-বীচ হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সহ-সভাপতি নুরুল আবছার।
তবে সাগরপাড়ের তারকাবিহীন হোটেলগুলোতে মাত্র ৬০ ভাগ কক্ষই ঈদের ছুটিতে আগাম বুকিং হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার। তিনি মনে করেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু আতংকের কারণে এবারের ঈদের ছুটিতে বুকিং কিছুটা কম হয়েছে। যদিও কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেকটা কম।
হোটেল মালিকরা জানান, ঈদের পরদিন মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজারে পর্যটকদের চাপ থাকবে। কার্যত শনিবার রাত থেকেই ফের খালি হতে থাকবে কক্সবাজার। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের আগ পর্যন্ত কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে পর্যটকদের তেমন চাপ থাকবে না।

x