ছুটছে মানুষ নাড়ির টানে, প্রাণপণে

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
117

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বৃষ্টি ভেজা দুর্ভোগ মাড়িয়ে ট্রেন ও বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। আজকের অফিসের পরেই শুরু হবে ঈদের ছুটি। আজ বৃহস্পতিবার অফিস করে সবাই ছুটবেন বাড়ির পানে। গতকাল সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ২২টি ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। একই চিত্র ছিল দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোতেও। ঈদের বাকি আর মাত্র দু’দিন। ছুটির কয়েকটা দিন স্বজনদের সাথে গ্রামে কাটানোর উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। শহরের কর্মজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ছুটছে গ্রামে।

গত মঙ্গলবার থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে বাসট্রেনে। আজ এ ভিড়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করছেন বাস মালিক এবং রেল কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন আজাদীকে জানান, ঈদ যাত্রায় আজ (গতকাল বুধবার) সকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত আন্ত:নগর, মেইল এক্সপ্রেস, কমিউটর ও লোকাল ট্রেন মিলে মোট ২২টি ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি আন্ত:নগর ট্রেনে যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার প্রতিটি ট্রেনে প্রচুর ভিড় হবে। বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ও বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর গামী স্পেশাল ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় ছিল। আসনের বাইরে অনেকেই ছাদে করেই গেছেন।

অন্যান্য আন্ত:নগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনে আসনবিহীন অবস্থায় অনেক যাত্রী ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে যাত্রা করেছেন। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা ট্রেনে নিয়ম অনুযায়ী আসন বিহীন টিকেট দেয়া হয় না। তাই এই দুটি ট্রেনে আসনের অতিরিক্ত কোন যাত্রী উঠতে দেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ।

সৌদিয়া চেয়ার কোচ সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন আজাদীকে জানান, আজ (গতকাল বুধবার) দূর পাল্লার যাত্রীদের (সাতক্ষীরা, বেনাপোল, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, ঈশ্বরদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বৃহত্তর বরিশাল, মাগুরা, যশোর, খুলনা, বরগুনার রুটে) প্রচুর ভিড় ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে চাপ বেড়েছে। আমরা আগে অগ্রিম টিকেট বিক্রি করেছি। টিকেট অনুযায়ী যাত্রীরা যাচ্ছেন। ১৪ ও ১৫ তারিখ ভিড় আরো বাড়বে। এদিকে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের (শুধুমাত্র সোনার বাংলা ও সুবর্ণ এক্সেপ্রেস ছাড়া) ছাদে উঠে গেছেন অনেক যাত্রী। ট্রেনের ভেতরে বসার সুযোগ না পেয়ে যাত্রীরা ছাদে ওঠার কথা জানান। রেল কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনও এসময় অনেকটা নিরুপায়। তাদের সামনেই দরজাজানালা দিয়ে ছাদে উঠছে লোকজন। কেউ কেউ আবার মই দিয়ে ছাদে উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের কিছুই করার নেই। কিছু করতে গেলেই যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আমরা শুধু অনুরোধ করছি, ছাদে না ওঠার জন্য। সৌদিয়া বাসের সাত ীরার যাত্রী মফিজুর রহমান জানান, প্রতি বছরই সড়ক পথে নানা দুর্ভোগ মাড়িয়ে ঈদে বাড়ি ফিরতে হয় ঘরমুখো মানুষদের। এবারও সড়কের অবস্থা তেমন ভালো নয়। বৃষ্টির কারণে মহাসড়কগুলোর বেহাল দশা। তারপরও পরিবারপরিজন নিয়ে আগে ভাগেই যাচ্ছি।

এদিকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সোনার বাংলার যাত্রী শায়লা বেগম জানান, ট্রেনে টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঈদে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এবারও টিকেট পেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আগেরদিন টাকা দিয়ে একজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে তারপর টিকেট পেয়েছি। ছুটি নিয়ে আজই চলে যাচ্ছি।

x