ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী

রাউজান প্রতিনিধি

রবিবার , ১৭ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
31

‘এসো স্মৃতির প্রাঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’ এ শ্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাউজান পৌরসদরের ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মিলন মেলা গতকাল শনিবার ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ পালন ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিতোষ ঘোষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা, রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উদযান পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হোসাইন টিপু। প্রধান অতিথি বলেন এই স্কুলটিকে করুন অবস্থা থেকে উঠে এনে সমৃদ্ধ স্কুলে পরিণত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্কুলটি যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজ তার সেই মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়েছে। তিনি স্কুলটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুসলিম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। এই বিপ্লবের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমাজে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ছোঁয়া আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পার ছি না। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ অথবা ভাল পাস করে সার্টিফিকেট আদায়ের দিকে প্রতিযোগিতা করলে হবে না। আমাদের শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানোর প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ করাতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণ করা গেলে আমরা নিজেদের লক্ষ্যস্থলের দিকে এগুতে পারব। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আমরা এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে আছি। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন বিপ্লব চলছে। তবে এই উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়ন করা না গেলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করাই এক্ষেত্রে জাতিগতভাবে মেধার বিকাশ ঘটানো যাবে না। অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিতোষ ঘোষ বলেন, প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এখন থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অবদান রেখে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা স্কুলের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, জীর্ণশীর্ণ স্কুলটি এই অবস্থায় নিয়ে আসতে রাউজানের সাংসদ যেভাবে সহায়তা করেছেন, তার এই অবদান এই এলাকার মানুষ যুগে যুগে স্মরণ রাখবে। তার সহযোগিতা ছাড়া স্কুলটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার গুনগত উন্নয়ন করে প্রথম সারিতে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না।
আবৃত্তিকার রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, চেয়ারম্যান সৈয়দ অব্দুল জব্বার সোহেল, সৈয়দ হোসেন কোম্পানী,তসলিম উদ্দিন, দিপলু দে দিপু, অনুপ চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন ইমু প্রমুখ। উল্লেখ্য এই আয়োজনের কর্মসূচিতে ছিল সকালে র‌্যালি, জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ও শান্তির পাঁয়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানিকতার পর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়, এ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে আলোচনা সভা, মধ্যহ্নভোজ, স্মৃতিচারণ, র‌্যাফেল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

x