ছাত্র সমাজ দিন দিন অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে

সুপ্রতিম বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
31

ছাত্রসমাজ আজ এত যে অসহিষ্ণু এর জন্য দায়ী আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের কারিকুলামে কতটুকু নৈতিকতা শেখানো হয়? কজন আদর্শ ব্যক্তির জীবনী পড়ানো হয়? আজ যদি একটি খুদে শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, বড় হয়ে কি হতে চায়। সে বলছে বড়লোক (ধনী) হতে চাই। বড়মানুষ বলছে না। আসলে বড়মানুষ বলতে যে কি বোঝায় সেটাই সে জানে না। কারণ আমরা ব্যর্থ তাদের শেখাতে। সামান্যতম সংযম তাদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না সেটা পরিবহনের ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ছোট- বড় প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের এই অসহিষ্ণুতা প্রকটভাবে দেখতে পাই। এতো গেলো ছাত্রদের কথা এছাড়া রয়েছে ছাত্র নামধারী অছাত্র এবং রাজনৈতিক দলের ক্যাডার।
যাদের যন্ত্রণায় বর্তমানে সাধারণ ছাত্রদের ত্রাহি অবস্থা। এরা প্রতিবাদের ভাষা বলতে কেবল ধ্বংসকে বোঝে, যা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। আস্তে আস্তে যা ছড়াচ্ছে সাধারণ ছাত্রদের মাঝেও। ছাত্ররা যদি নিজেদের এই কাতারে শামিল করে ফেলে তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে অবরোধ, হতে পারে মানববন্ধন, হতে পারে অবস্থান কর্মসূচি এমন কি অনশন। গাড়ি কেন ভাঙছেন? কার গাড়ি ভাঙলেন? ঐ গাড়িতে তো আপনার বা অন্যকারো অসুস্থ মা বাবা থাকতে পারেন। হয়ত আপনার জন্য তিনি মারা গেলেন। কি করে ক্ষমা করবেন নিজেকে।একবার ভাবুন? আপনি ছাত্র আপনি নিজেকে তৈরি করতে এসেছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। কি শিখাবেন তাদের? ধ্বংস না সৃষ্টি, শান্তি না অশান্তি?
৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ বা গত তত্ত্বাবধায়কের সময় সংঘটিত যে ছাত্র আন্দোলন তাতে কোন ব্যানারই কার্যকর ছিল না। আর সে ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন সাধারণ ছাত্ররা। যা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বাইরে। আসলে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের ব্যবহার করছে তাদের পেশীশক্তি হিসেবে। আর তাই প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ছাত্র রাজনীতির পক্ষে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ছাত্রদের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় হয়ত এমন দিন আসবে যখন ছাত্র পরিচয় দেয়াই হবে লজ্জার। এমন দিন যেন না আসে।

x