ছাত্রী উত্ত্যক্তকারীদের শাস্তি প্রসংগে

বুধবার , ৬ জুন, ২০১৮ at ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
13

গত ২১ মে দৈনিক আজাদীর ২য় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে ইয়াছিন আরাফাত নামে এক বখাটেকে ১৫ দিনের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জানা যায়, প্রায় তিন মাস যাবত উক্ত ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল ওই বখাটে। ওই স্কুল ছাত্রী বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবককে অবহিত করেন। প্রধান শিক্ষক পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বখাটেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পত্রপত্রিকায় মাঝে মাঝে সংবাদ প্রকাশিত হয় স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে শাস্তি দেবার খবর। আমাদের সমাজে এ অপরাধটি যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি এর শাস্তিও তেমন দৃষ্টিগোচর নয়। ফলে সংকট বাড়ছে। অপরাধীরা দুর্দমনীয় হয়ে উঠছে। ছেলেদের হাতে মেয়েদের নিগ্রহ শুধুই শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে শিশুরা যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে পরিবার মাবাবার কাছে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধ অর্জন করে সেটিও কম খেলে না তাদের মনোজগতে। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান সংকট হচ্ছে যে আইন আছে তাও তেমন যথাযথ প্রয়োগ নেই। অন্যদিকে আইনের ফাঁকফোকর ছাড়াও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এ ধরনের অপরাধীদের বিচার প্রহসনে পরিণত হয়। ফলে প্রকৃত অপরাধীর বেশির ভাগেরই শাস্তি হয় না। একদিকে আইনগত কাঠামোর কারণে অন্যদিকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অধিষ্ঠিত শক্তিধরদের হাতে অপরাধীরা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে বলে আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। যদিও তারা জনসংখ্যার অর্ধেক কিংবা তারও বেশি, তবু তারা পিছিয়ে। জীবনের নানা ক্ষেত্রে শিক্ষা দীক্ষা করে নানা পেশায় প্রবেশ করে মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পুরুষের মতোই জীবনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। এ চ্যালেঞ্জে অনেকেই সফল। ঠিক এ মুহূর্তে প্রবল মহামারির মতো তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক শ্রেণির বখাটেরা। যার মূল উৎপাটনই জরুরি। বহুসংখ্যক মেয়ে লজ্জা ও যন্ত্রণায় আত্মাহুতি দিয়েছে। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিবাদ করায় নিগৃহীত হয়েছে। এদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কতজন তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। তা কি আমরা বলতে পারবো? পারব না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর তা তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া হয় আমরা তাতেই আশ্বস্ত হই নতুন ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। এ প্রবণতা শুভ নয়। এটা রোধ করতেই হবে।

ণ্ড এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x