ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি, একে একে সব ধরবো : প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
772

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে চলমান শুদ্ধি অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। একে একে সব ধরবো। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান। সেখানে তিনি এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাংলানিউজের।
অনিয়মকারীদের কাউকে ছাড়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের পর এখন যুবলীগকে ধরেছি। সামাজিক যেসব অসঙ্গতি এগুলো দূর করতে হবে। মারামারি খুনি, এই যে ক্যাসিনো নিয়ে মারামারি খুনোখুনি হবে এগুলো টলারেট করবো না। তিনি বলেন, আমি কষ্ট করে সব কিছু করছি দেশের জন্য, দেশের উন্নয়ন করছি, এর ওপর কালিমা আসুক সেটা আমি কোন ভাবে হতে দেবো না। আমি কাউকেই ছাড়বো না। যদি কেউ বাধা দেয় কাউকে ছাড়া হবে না। ক্যাসিনোতে যেসব বিদেশি কাজ করছে তাদের যারা এনেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত বিদেশি, তারা আসলো কিভাবে, তারা ভিসা পেল কিভাবে, তাদের বেতন দেওয়া হয় কিভাবে, ক্রেডিট কার্ডে না ক্যাশে। কে ভিসা দিয়ে আনলো সমস্ত কিছু তদন্ত করা হচ্ছে। সবই ধরা হবে।
ছাত্রলীগ নেতাদের সর্তক করলেন শেখ হাসিনা : ছাত্রলীগ নেতাদের সর্তক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছি। বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা যদি রাখতে না পারো তাহলে….। ক্ষমতা প্রদর্শনের রাজনীতি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা সো আপ করা, ছাত্র নেতাদের কাছ থেকে আশা করি না। ছাত্র নেতাদের বিনয়ী থাকতে হবে। যত উপরে উঠবে তত বিনয়ী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে চলতে হবে, প্রোটোকল নিয়ে চলতে হবে, ক্ষমতার সাথে চলতে হবে, এগুলো করা যাবে না। এগুলো করলে সাময়িক ভাবে কিছু টাকা পয়সা হবে কিন্তু হারিয়ে যাবে। সেটা হবে দু:খজনক। এটা আমি তোমাদের কাছে চাই না। শেখ হাসিনা বলেন, তাৎক্ষনিক ভাবে কিছু পেলেই নিয়ে নিতে হবে এই ধারণা নিয়ে রাজনীতি করলে কিছু পাওয়া যায় না। যখন যেভাবে চলার সেই শিক্ষা নিয়ে চলতে হবে। সেই শিক্ষা বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলাম।
ছাত্রলীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে নিতে হবে। যাতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন, নীতি আদর্শ, সততা, সংযম নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। যদি সেটা না করো, একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি না তাহলে ভবিষ্যতে কার কাছে দেশ রেখে যাবো। তোমাদের কাজে মূল্যায়নের মধ্যে দিয়ে আসতে হবে, আগামী দিনের নেতৃত্বে। মানুষ তাহলে সাদরে গ্রহণ করবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি চাই, একটা আদর্শ নিয়ে চল, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও। ২০৪১ পর্যন্ত তোমরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্ররা লেখাপড়া করতে এখানে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আসে। তাদের সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র নেতাদের বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবন, কারাগারের রোজনামচা, বঙ্গবন্ধুর সিক্রেট ডক্যুমেন্ট পড়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখান থেকে ভালো রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায়। কোনো কাজই যেন সরকারের সুনাম নষ্ট না করে সে বিষয়ে সবাইকে সর্তক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলে কর্ষার্জিত সফলতা, সরকার পরিচালনার সুনাম নষ্ট হবে। সাধারণ মানুষ বিরক্ত হয় এমন কোন কাজও করা যাবে না। ছাত্রলীগের সোনালী অতিতের কথা তুলে ধরে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেন নেতাদের।

x