ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে চট্টগ্রামের কারা থাকছেন?

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ১২ মে, ২০১৮ at ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
627

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেতে পারেন। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতারা জোর লবিংতদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা চট্টগ্রামের বাসিন্দা হলেও মূলত সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির সাথে জড়িত।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা আজাদীকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন ছাত্রনেতাও এবার কেন্দ্রের নতুন কমিটিতে স্থান পেতে তদ্বির চালাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে এবার বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এই ছাত্রনেতা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির সাথে জড়িত চট্টগ্রামের দুইজন ছাত্রনেতার সাথে কথা হলে তারা গতকাল আজাদীকে জানান, আদিত্য নন্দী, সৈয়দ মোহাম্মদ আরাফাত, মাহমুদুল হাসান তুষার, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির, জাইয়্যেদ বিন জলিল, সোহেল আরমানসহ অনেকেই এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিকাল সাড়ে ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। আজ ১২ মে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সারাদেশের কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের কাউন্সিল অধিবেশনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও চলছে এ আলোচনা। নানা হিসেব কষছেন চট্টগ্রামের সাবেকবর্তমান ছাত্রনেতারা। সেই সাথে আওয়ামী লীগ নেতারাও। বিশেষ করে আওয়ামী রাজনীতিতে ছাত্র রাজনীতির বেশ কদর থাকায় এ আলোচনা বেশি হচ্ছে দলটির ভেতরবাইরে। আদিত্য নন্দী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুবাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এক সময় চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। কমার্স কলেজ থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আদিত্য নন্দীর গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার ফটিক ইউনিয়নে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বেশ সক্রিয় ছিলেন আদিত্য নন্দী। ফলে এবারের ২৯তম কাউন্সিল অধিবেশনে ঘোষিত কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন বলে জানা গেছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ আরাফাত বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপস্কুল বিষয়ক সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিনি। এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১নং সহ সভাপতি ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম নগর ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি। এবারের কমিটিতে তার মূল দায়িত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার ক্লিন ইমেজ রয়েছে।

মাহমুদুল হাসান তুষার বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ওই হল কমিটির। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার নয়াবাজার ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি। এক সময় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ মাহমুদুল হাসান তুষার। এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন তুষার।

তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির, বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক। এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নে। এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনিও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন।

জাইয়্যেদ বিন জলিল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে এবারের ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোহেল আরমান, কেন্দ্রীয় কমিটির উপ সম্পাদক। তিনিও এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে পারেন বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজনও কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান করে নিতে লবিংতদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন তা জানা যাবে আজ কাউন্সিল অধিবেশনে।

x