চো খে র পা নি

আমেনা বেগম

বুধবার , ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
250

কবির কথা, ‘কপোল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে।” কপোল মানে গন্ডদেশ, অর্থাৎ গাল। আর নয়ন হলো চোখ। তার মানে চোখের পানিতে দু’গা ভিজে একাকার হয়ে গেল। জসীম উদ্দিনের ‘রাখালী কাব্য গ্রন্থের ‘কবর’ কবিতায় বৃদ্ধ দাদু তাঁর শিশু-নাতিকে দাদীর কবর দেখিয়ে বলছেন-‘তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।” চোখে পানি আসে নানা কারণে। তার মধ্যে রয়েছে রাগ, দুঃখ ভয় ইত্যাদি ভাবাবেগ। অতিরিক্ত দুঃখে যেমন মানুষের চোখে পানি আসে, আবার অতি আনন্দেও দু’চোখ পানিতে টলটলে হয়ে পড়ে। চোখে পানি আসার আরেকটি প্রধান কারণ হলো খুব ঠান্ডা বা গরম। শীতের রাতে বাইরে বেশী ঘুরাফেরা করলে অনেকেরই চোখের পানি পড়া রোগ হয়। আবার ভর দুপুরে খররোদে চলাফেরা করলে বেশীরভাগ লোকেরই চোখে পানি আসে। জ্বালা করে চোখ। ধোঁয়া বা ঝাঁঝালো জিনিসের সংস্পর্শেও চোখের মণি পানিতে টলটলায়মান হয়। বেশী আলোতে টি.ভি ভি.সি. আর দেখলে কী হয়? তাতেও চোখের ক্ষতি হয়। চোখ ব্যথা করে। জ্বলে, পানি পড়ে। বিশ্বাস না হয়, একবার পরীক্ষা করেই দেখো না।
চোখে পানি আসে কোত্থেকে? চক্ষুগোলকের উপরে হাঁড়ের খোলসের নীচে বাদামের মতো এক ধরনের গ্রন্থি থাকে। নাম অশ্রুগ্রন্থি বা লেকরিমাল গ্র্যান্ড’। ল্যাটিন শব্দ ‘লেকরিমা মানে অশ্রু। গ্রন্থিতে যে তরল পদার্থ থাকে সেটাই আমাদের চোখের পানি। কখনো চোখের পানি জিতে লেগেছে কি? লাগলে মনে হবে-সেটা খানিক নোনতা। চোখের পানিতে তাই রয়েছে লবণ, পানি আর লাইসোজাইম নামক একটি এনজাইম। এটি মুলতঃ প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। এর কাজ চোখের ক্ষতিকর জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা। অজস্র চিকন নালী বেয়ে গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত রস নাকের পাশের কোণায় এসে জমে। সেখানে থাকে লেকরিমাল সেক বা অশ্রু থলি। সেখান থেকে পরে আরেকটি মোটা নালী পথে সে অশ্রু নাকে এসে পড়ে। সাধারণ অবস্থায় চোখের পানি ওপরের পাতা বন্ধ হবার সময় চোখের বাইরের অংশ “নেতৃবর্তনকলা” ধুয়ে দেয়। তাতে চোখ ভেজা থাকে। এ ছাড়া চোখ রক্ষা পায় ক্ষতিকর জীবাণুর হাত থেকে। গ্রন্থি হতে পানির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইনের মুক্ত কেন্দ্র হতে আগত কিছু স্নায়ু বার্তা।
অনেক সময় অশ্রু থলি ও অশ্রু নালীতে জীবাণু সংক্রমণের কারণে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। তাই সর্বদাই পানি চোখ দিয়ে উপচে পড়ে। এর নাম “ডেকোরিওসিসটাইটিস” এটা একটা জটিল রোগ। এর চিকিৎসায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

x