চোখের যত্নে পুষ্টিকর খাবার

ডা. শামস মোহাম্মদ নোমান

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
190

রাহেলার বয়স পাঁচ। সুন্দর, ফুটফুটে মেয়ে কিন্তু চোখে দেখে না। ২ বছর আগে তার জ্বর এবং পাতলা পায়খানা হয়েছিল, তারপর চোখে ঘা হয়ে চোখ নষ্ট হয়ে যায়। রাহেলার মত এরকম অনেক শিশুই এমন অন্ধত্বের শিকার।

এমন অন্ধত্বের কারণ

জ্বরের কারণে শিশুর খাবার রুচি কমে যায়, আবার পাতলা পায়খানার কারণে শরীরের পুষ্টিকর উপাদান শরীর থেকে বের হয়ে যায়, ফলে শরীরে ভিটামিন-এর ঘাটতি দেখা যায় বলে চোখের পানি শুকিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে চোখে ঘা-এর সৃষ্টি হয়। একে জেরফথালমিয়া বলা হয়।

কোন ধরনের খাদ্য উপাদান প্রয়োজন

হ ভিটামিন ‘এ’ হলো চোখের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এটা চোখের বিভিন্ন অংশের আবরণকে রক্ষা করে। এর অভাবে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। চোখের কালো রাজাতে ঘা হয় এবং পরবর্তীতে চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
হ ভিটামিন ‘এ’-এর সাথে ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘ই’-এর প্রয়োজনীয়তা আজ বহুলভাবে প্রমাণিত। এদের এক সাথে এন্টিঅক্সিডেন্ট বলা হয়। এসব ভিটামিন বয়সজনিত চোখের দৃষ্টিক্ষয় অনেকাংশে রোধ করে।
হ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাবে চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে চোখ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
হ আামাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে অনেক শিশুই ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করছে। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ রেটিনা নষ্ট হয়ে যায় বলে প্রথমে রাতকানা এবং পরবর্তীতে শিশু স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভিটামিনের অভাবে করণীয়

হ ভিটামিনের অভাবজনিত চোখের রোগ শিশুদের মাঝে বেশী দেখা যায়। শিশুর জন্মের পর মায়ের দুধেই তার জন্যে সর্বোত্তম খাদ্য। মায়ের শাল দুধে প্রয়োজনীতা সব খাদ্য উপাদান থাকে। তাই যেসকল মায়েরা শিশুকে প্রথম থেকেই বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করেন সেসব শিশুদের ভিটামিনের অভাবজনিত অন্ধত্ব অনেক কম হয়।
হ ছোটবেলা হতেই শিশুকে সুষম খাদ্যে অভ্যস্ত করতে হবে।
হ ছোটমাছ, পাকা ফল, শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে। শিশুকে এসব খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে।
হ জ্বর এবং পাতলা পায়খানা হলে প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন এবং সুষম খাদ্য দেয়া প্রয়োজন যেন শরীরে ভিটামিন এবং লবণের ঘাটতি না হয়।
হ শিশু রাতে ঝাপসা দেখলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
হ ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ সময়মত খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সবচেয়ে বড় কথা ভিটামিনের অভাবজনিত অন্ধত্ব শুধু সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন প্রচার এবং জনসচেতনতা।

x