চুলপড়া ও নতুন  চুল গজানো

ডা. নিশীথ রঞ্জন দে

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
70

সৌন্দর্যের পিপাসা মানুষের চিরন্তন। আর চুল মানুষের সৌন্দর্যের একটা প্রধান অংশ। যুগে যুগে দেশে দেশে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবাই তাই চুলের জন্য বিশেষ যত্নশীল।

মানুষের চুলের তিনটি পর্যায় (stage) থাকে :

. Anagen (বর্ধনশীল)stage : চুল গজানো থেকে শুরু করে চুল বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণতঃ ২ থেকে ৬ বছর সময় মাথায় চুল অহধমবহ ঝঃধমব এ থাকে।

. Catagen (অকর্মণ্য) stage : এসময় চুলের কোনো বৃদ্ধি হয় না। এক থেকে দু’সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

. Telogen / Resting stage: তিন থেকে পাঁচমাস স্থায়ী হয়। এরপরই চুল ঝরে পড়ে যায়। তবে সুখের বিষয় হলো এসময় আবার নীচ থেকে নতুন চুল গজাতে থাকে (অহধমবহ যধরৎ) নানা কারণে মানুষের চুল পড়ে যেতে থাকে। বয়সের সাথে সাথে ঞবষড়মবহ যধরৎ পড়ে আবার অহধমবহ যধরৎ গজানো একটা স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় ঘটনা। কিন্তু কিছু কিছু হরমোন ঘটিত কারণ যেমন অপুষ্টি, বংশগত কারণ অথবা কিছু কিছু অসুখের জন্য বা ওষুধের জন্য চুলের বৃদ্ধির হার চুলের সাথে তাল মিলাতে পারে না। তখনই টাক পড়া বা মাথার চুলের ঘনত্ব উল্ল্যেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায়। এই অবস্থায় চিকিৎসা জরুরি।

টাক বা চুলপড়ার কারণ নির্ণয় করা সাপেক্ষে চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্নতা হয়। খাদ্যমান উন্নত করা, কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহার চুল পড়া রোধ করে বা নতুন ভাবে অহধমবহ যধরৎ গজাতে সাহায্য করে। Minoxidil, finasteride এ জাতীয় ঔষুধ। Minoxidil আবার সঠিকমাত্রায় প্রয়োগ না হলে মহিলাদের পুরুষের মতো গোঁফদাড়ি গজাতে পারে। Finasteride ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়। আর এইসব ওষুধে যদি কারো লাভ হয় তাহলে তাদেরকে সারাজীবন এসব ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বৈপ্লবিক বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি PRP Therapy. PRP অর্থ platelet rich plasma। প্রত্যেক রোগীর নিজস্ব রক্তের চষধঃবষবঃ বা অনুচক্রিকাকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে আলাদা করে বিশেষ পদ্ধতিতে ঐ রোগীর মাথার চামড়ার নীচে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। অনুচক্রিকাতে প্রচুর পরিমাণে চুলের গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে যেগুলো চুলের বৃদ্ধি ও তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।

প্রতিমাসে একবার করে ৪ থেকে ৬ বার করলে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং ১০ থেকে ১২ বার করলে আগের পড়ে যাওয়া চুলের গোড়া থেকে নতুন চুল গজায় বা নরম সরু চুলকে পূর্ণাঙ্গ চুলে রুপান্তরিত করে। নিজের শরীরের রক্ত আবার নিজের শরীরেই ঢুকানোতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। খুবই সহজ, সাধারণ ও অপারেশানবিহীন পদ্ধতি। সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। অতিদ্রুত মাথার চামড়া ও চুলের অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যায়। অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার দরকার পড়ে না। এটি কার্যকরি ও দীর্ঘমেয়াদী। এই দীর্ঘমেয়াদী ও অত্যাধুনিক পদ্বতিটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত পদ্বতিতে নিয়ে এসেছে শিওরসেল মেডিকেল, প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (চর্ম ও যৌনরোগ), কনসালটেন্ট, শিওরসেল মেডিকেল

x