‘চিরকুটের সেই জাহেদ’ রিমান্ডে

মিমির আত্মহত্যা

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
66

‘আমি নিজের ইচ্ছেই এ পথ বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য এ বাসায় বা আমার পরিবার কেউ দায়ী নয়। … আমার যদি বা কিছুই হয়ে যায় জাহেদকে ধরলে সব বের হয়ে যাবে।’ এটা আত্মহত্যার আগে লেখা একটি চিরকুটের বক্তব্য । ওয়াইনুচিং মারমা মিমি নামে এক নারীর। যিনি আত্মহত্যা করার আগে এ চিরকুট লিখে তার মৃত্যুর জন্য কে দায়ী তা লিখে যান। এ ঘটনার একদিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি নিহত তরুণীর বাবা অং সুই মারমা বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গতকাল রোববার মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালত থেকে ‘চিরকুটের সেই জাহেদকে’ একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের করা ৫ দিন রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। আসামি মোহাম্মদ জাহেদুল হক (২৭) রাউজান এলাকার সাহানগর এলাকার মৃত মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রকিসিকউশন) কাজী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ওয়াইনুচিং মারমা মিমির সাথে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে জাহেদুল হক বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেছে। তার হুমকি এবং চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে সে মৃত্যুর বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গেছে।
মামলার এজাহারে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর দক্ষিণ খুলশী এক নম্বর সড়কের সি ব্লকের সৈয়দ রহমান টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলার বাসা থেকে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় ওয়াইনুচিং মারমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওয়াইনুচিং মারমা রেলওয়ে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ খুলশীর ওই বাসায় খালাতো বোনের পরিবারের সাথে তিনি থাকতেন। তিনি রাঙামাটির বেতবুনিয়ার সানাইপাড়ার অং সুই মারমার মেয়ে।
এদিকে মামলা দায়ের করার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন জাহেদ। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১২ দিনের মাথায় গত ৭ এপ্রিল মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গণি তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

x