চিটাগাং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

এম.এম. মামুন

শনিবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
376

ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে বিশ্বে যথেষ্ট কদর রয়েছে। এর প্রয়োজনীয়তা বোধ করে ধনিক শ্রেণির সাথে পাল্লা দিয়ে মধ্যবিত্তরাও তাঁদের সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে পড়ানোর আগ্রহ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই প্রয়াসকে সমনে রেখে চিটাগং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আমাদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই স্কুলে দুটি ধারায় পড়ালেখা হয়। এক. ব্রিটিশ কারিকুলাম (ক্যামব্রিজ সিলেবাস অনুযায়ী) দুই. ন্যাশনাল কারিকুলাম অথচ মাধ্যম ইংরেজি।
এ স্কুলের শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হলেও আমাদের দেশীয় কৃষ্টি-কালচারের প্রতি রয়েছে যথেষ্ট আন্তরিকতা। সে জন্য এখানে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার অর্জনের মধ্যদিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জন ও ভিনদেশের সাথে পরিচিতি লাভ করছে; সাথে সাথে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনায়ও উদ্ভুদ্ধ হচ্ছে। ‘সুষম ব্যক্তিত্ব সৃষ্টির এক অবিরাম প্রয়াস’-এ স্লোগানে উদ্বেলিত হয়ে চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞ অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিটাগং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ৮ জানুয়ারি ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে- যা বর্তমানে চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকে অবস্থিত। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সিআইএস-এর জ্ঞানের মশাল অনির্বাণ শিখা হয়ে জ্বলছে। সিআইএস ২০০৫ সাল হতে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছে। মূলত সিআইএস-এর পরিচালকবৃন্দের লক্ষ্য ছিল বিশ্বায়নের যুগে স্বল্প খরচে যুগোপযোগী ও মানসম্মত একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা। ২০০৮ সালেই ক্যামব্রিজ বিশ্ববদ্যিালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘ও’ লভেলে পরীক্ষায় হিউম্যান বায়োলজি বিষয়ে ‘টপ ইন্‌ দ্যা ওয়ার্ল্ড’ ও সেই সাথে বাংলাদশে সেরা স্কুল বিবেচিত হয়। এভাবে উন্নয়নের যাত্রাপথে সময়ের দাবি পূরণে সিআইএস নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ করে ন্যাশনাল কারিকুলাম (ইংরেজি ভার্সন)। চালু হলো দু’টি শিক্ষাবর্ষ আগস্ট-জুলাই ও জানুয়ারি-ডিসেম্বর। ২০১১ সাল হতে ক্রমান্বয়ে প্রাথমিক সমাপনী জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ কৃতিত্বের সাথে শতভাগ সাফল্য অর্জন করে।
সিআইএস-এ শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কিছু অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। শিক্ষার্থীর মনন ও মেধার বিকাশে পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে রয়েছে খেলাধুলা, কুইজ ও ডিবেট কম্পিটিশান, সায়েন্স ফেয়ার, পিকনিক স্টাডি ট্যুর ছাড়াও বিভিন্ন এঙট্রা কারিকুলার একটিভিস। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন সময়ে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্পেলিং, ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত বুক রিডিং ও আর্ট কম্পিটিশানে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে সিআইএস শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করে তারা পুরস্কৃত হয়ে সকলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে যাচ্ছে।
সিআইএস-এর রয়েছে অভিজ্ঞ ও উদ্যমী ৪৫ জন শিক্ষক এবং প্রায় ৪০০ জনের মতো শিক্ষার্থী। এ স্কুলের সুপরিসর ভবনে উন্নত সায়েন্স ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি ছাড়াও স্পেশাল স্পোকেন ইংলিশ ক্লাস ও আরবি শিক্ষা ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি সেশনে শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ক্যামব্রিজ কারিকুলাম বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ট্রেনিং-এ সিআইএস অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষক ট্রেনিংয়েও সি.আই.এস অগ্রগামী। চিটাগং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির স্বার্থে অভিভাবকদের বিভিন্ন পরার্মশকে সদা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বার্ষিক তিনটি সেশনেই Parents Teachers Meeting (PTM) এর আয়োজন এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে শ্রেণি ভিত্তিক শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাক্ষাতের জন্য সময় নির্ধারণী দেয়া থাকে-যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভূমিকা আরো সুদৃঢ় ও গঠনমূলক করে তোলে।
এছাড়াও সিআইএস প্রবাসী অভিভাবকদের অনুরোধে স্কুল বিল্ডিংয়ে একটি ঘরোয়া পরিবেশে হোস্টেলেরও ব্যবস্থা রেখেছে। এ প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ডিকেইড এগিয়ে আসছে ২০২০ সালে।
পাশাপাশি সি.আই.এস নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ার উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে ভূমিও নির্ধারণ করেছে। আশা করি, সিআইএস এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে আগামীতে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

x