(চিটাংগে ভাষা আঁরার গর্ব)

এসএম সালাহ্‌উদ্দিন সামির

শনিবার , ৩১ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
97

সত্য বলতে কি বাংলা ভাষার সাথে চট্টগ্রামের ভাষার ৭০ ভাগই ন্যূনতম মিল নেই। যেমন টা ধরুন: মুরগিকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলে ‘কুরা’, শালিককে বলে ‘দেচ্ছো’, তেলাপোকাকে বলে ‘তেইল্লেচোরা’ কাক কে ‘কাউয়া’, টয়লেটকে ‘টাট্টি’, খারাপ মানুষকে ‘জারগো’ ইত্যাদি ইত্যাদি…।
আর চট্টগ্রামের ভাষায় এমন কিছু এপিক এঙপ্রেশন আছে যা শুধু বাংলা কেন! পৃথিবীর কোন ভাষায় অনুবাদ করা যাবে না। যেমন ধরুন : অবাইজ্জেখোদা! আত্তামারেবাপ! মাইল্লেফিরে! অবাজিরে! উম্মারেম্মা। এরকম আরো শত শত এঙপ্রেশন। তাছাড়া চট্টগ্রামের প্রবাদগুলোও পুরোপুরি ভিন্ন।
যেমন ধরুন ‘পুন্দত নাই তেনা, মিডে দি ভাত হানা’, ফুয়াদেল্লাই ছাড়িত ন পারির, কেডারলাই গিলিত ন পারির। সাত পাঁচ চইদ্দ, দুই টিয়া নইদ্দো। ঘরের গরু ঘাডার খের ন হায়। এ রকম হাজারো প্রবাদ আছে। যা বাংলা ভাষায় বুঝে নেয়া অনেক কঠিন। মানুষ এই ভাষা কে কঠিন, কুৎসিত, যে যাই বলুক, এটিই আমাদের মায়ের ভাষা। এ ভাষা শেখা যায় না। যুগের পর যুগ মানুষ চট্টগ্রাম থেকেও এ ভাষা আয়ত্ত করতে পারেনা। এ ভাষা জন্ম থেকে আয়ত্ত করতে হয়। বেচে থাকুক চাটগাঁইয়া ভাষা অনন্ত কাল। ‘চিটাংগের ভাষা আঁরার গর্ব’
যদি চিটাগাং এর ভাষা শিখতে চান চিটাগাংকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হবে, ভালবাসতে হবে চিটাগাংর সমস্ত কালচারকে, হয়তো তারপরও কিছুটা বলতে পারবেন আশা করছি। চট্টগ্রামের সাথে থাকুন, নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামের মানুষ সহজ সরল, আপন করে নেয় সহজেই। অতিথিপরায়ন,তাছাড়া কি নেই চট্টগ্রামে ঐতিহ্যের ছড়াছড়ি, শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি, রাজনীতি, বিপ্লব, আন্দোলন, তথা ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য চট্টগ্রাম উর্বর জমি, এটাতো প্রমাণিতই- চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানে গানে বিদায় নিচ্ছি আজ আপাতত : ‘গলাত তুলি গান.. দইজ্জার কুলত বসদ গড়ি শিনা-দি ঠেহাই ঝড় তোয়ান. ও ভাই আরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান ও ভাই আরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান’।

x