চিকিৎসা বিজ্ঞানের বদন্যতা

রবিবার , ১০ জুন, ২০১৮ at ৩:২০ অপরাহ্ণ
18

বিশ্বব্যাপী মানুষের আয়ু বেড়ে চলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। যার ফলে বৃদ্ধ লোকের সংখ্যা অল্প বয়স্ক কর্মক্ষম লোকের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগামী ২৫ বছরে দীর্ঘায়ু লোকের সংখ্যা প্রকট আকার ধারণ করবে। এর ফলে পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক জীবনে বিশেষ কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য সেবা ও পেনশন ব্যবস্থার উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জনসংংখ্যার ধরণ দ্রুত পাল্টে যাবে। এসময় কর্মক্ষম লোকের তুলনায় বৃদ্ধ লোকের সংখ্যা বেশি হবে। মানুষ বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা বিজ্ঞান উত্তরোত্তর আধুনিক কৌশল আর ওষুধপত্র নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। স্বাস্থ্যের জন্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষকে শুধু বাঁচিয়ে রাখার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞান শত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অব্যাহতভাবে। কেন না বিশ্ব চাচ্ছে তার মানব সন্তানের জন্য সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা অধিকার গুলো আজ মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বস্বাস্থ্য পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে মানুষের আয়ুষ্কাল বাড়ছে। আয়ুষ্কাল বাড়াতে বৃদ্ধের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তাহলে কি আজকে বৃদ্ধরা বিশ্বের কোনো সমস্যা? অর্থনৈতিক পর্যায়ে এমন প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। সামাজিক মানসিক দিক থেকেও এর একটা প্রতিক্রিয়া আসে বৈকি? মানুষ শত শত আশা বুকে ধরে পৃথিবীতে বাঁচে। প্রতিটি মানুষ মরবে এটা জানা সত্ত্বেও বাঁচার জন্য যত্নশীল হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্যে অফুরন্ত প্রত্যাশা তাকে সচেতন করে রাখছে। কেউ মরতে চায় না। বৃদ্ধরা বোঝা হলেও তাদের শ্রমচিন্তা দিয়েই পৃথিবী গড়া। আমাদের দেশে বেশির ভাগ প্রবীণদের জীবন যাপন সমাজে খুবই করুণ ও বৈচিত্র্যময়। বিশ্বের অনেক উন্নতি দেশেও রয়েছে এই করুণ বিষাদময় জীবনযাপন। এক সময় মনে করা হতো বার্ধক্য শুধু উন্নত বিশ্বেরই সমস্যা। কিন্তু না বার্ধক্য উন্নয়নশীল, অনুন্নত দেশেরও সমস্যা। সমস্যাসমস্যাই। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রবীণদের সমস্যাই বেশি। আমাদের দেশে প্রবীণদের বেশিরভাগই কর্মহীন থাকায় তাদের সামাজিক চাহিদা টুকুও তারা পায় না। সেটা সংসারেই হোক আর সমাজেই হোক। সর্বক্ষেত্রেই তাচ্ছিল্যভাব। একজন প্রবীণ ব্যক্তি কর্মহীন হয় তখন যখন সে তার বয়সের ভার সহ্য করতে পারে না। আর তাই সমাজ সংসারে তার কোনো মূল্যই নেই। এক সময় যৌথ পরিবার সবাই পছন্দ করত। কিন্তু বর্তমানে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে বেশি। যৌথ পরিবারের বা সংসারের প্রধান কর্তা হতো ওই পরিবারের প্রবীণ ব্যক্তিটি। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থার বিপরীত অবস্থা হচ্ছে। ফলে সংসারের প্রবীণ ব্যক্তিটির কোন মূল্য নেই। তিনি অবহেলা ও অনাদায়ের শিকার হচ্ছেন। আমাদের দেশে প্রবীণরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবসর জীবন যাপন কিছু করতে না পারা চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকা। সংসারে পরাধীন বা অন্যের অধীনস্থ হয়ে থাকা। সামাজিকসাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারা, কাজ করতে না পারায় তাচ্ছিল্যভাব সহ্য করা ইত্যাদি নানা সমস্যা। আমরা যদি বার্ধক্যকে সমাজ সংসারে বোঝা মনে করি তবে ভবিষ্যতে সমাজে আমাদের বোঝা হিসেবে গণ্য করবে। তাই প্রবীণদের ঘৃণা বা অবহেলা না করে নিজের শিশু সন্তানটির মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।

এম.. গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x