চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত যেন বাজারে বিরূপ প্রভাব না ফেলে

শুক্রবার , ৮ জুন, ২০১৮ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
84

চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সচিবালয়ে গত ৪ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেনসে তিরিকের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। চাল আমদানি ও দামের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান যে, এরই মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যে কোনো পণ্যের শুল্ক যে কোনো সময়ই তাঁরা কমাতে পারেন। যেমন চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল যখন খাদ্যের একটু অভাব ছিল বাজেট ছাড়াই তখন তা ২ শতাংশ নামিয়ে এনেছেন। এবার শস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। অস্বাভাবিক উৎপাদন হয়েছে চাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাল আমদানি শুল্ক আগের পর্যায়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এটা আসতে হবে বাজেটের মাধ্যমে। ৭ জুন যে বাজেট পেশ হয়েছে ওইদিন থেকে এটা কার্যকর হয়েছে।

চাল আমদানির ওপর শুল্কারোপের সিদ্ধান্তটি একদিকে যেমন ইতিবাচক উদ্যোগ, অন্যদিকে খানিকটা স্পর্শকাতরও। এর মধ্যে কৃষকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি যেমন নিহিত থাকে, তেমনি সাধারণ ভোক্তাদের দিকটিও বিবেচনাযোগ্য। চলতি বছর বাম্পার ফলন হলেও বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই শুরুর আগে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে। আড়তে আগে থেকেই আমদানিকৃত চাল মজুত থাকায় কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। চাল আমদানিতে শুল্ক নির্ধারণের মাধ্যমে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হোক। তবে এর সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে বাজারে চালের দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও। রোজা উপলক্ষে এমনিতেই শাকসব্জি, ফলমূলসহ বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সাধারণ ভোক্তা বেশি দামে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় যদি আমদানিতে শুল্কারোপের ফলে চালের দাম আরেক দফা বেড়ে যায়, তবে তা সার্বিক অর্থে সুখকর হবে না। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় যেমন সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, তেমনি চালের দামও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পণ্যমূল্য নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। গত বছর বন্যা ও ব্লাস্ট রোগের কারণে ধান উৎপাদন কম হওয়ায় চালের বাজার সহনীয় রাখতে সরকার আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দেয়। সঙ্গত কারণেই আমদানি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত আমদানি সত্ত্বেও কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাজারে চালের দাম কমেনি। সরকার কৃষককে স্বস্তি দিতে ধানচালের মূল্যও বাড়িয়েছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী, আড়তদার ও মিলমালিকদের কারসাজিতে মূল্যবৃদ্ধির সুফল ভোগ করতে পারেননি কৃষক। তাই চাল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মুনাফালোভী ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা যে এর ফায়দা লুটবে না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। মজুদ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারে চালের সরবরাহ কমিয়ে অলীক সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি করতে না পারে, তার দিকেও সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। দেখা যায়, শুল্কারোপের ফলে কিছু ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তী সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। এর ফলে চালের দাম বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই শুল্কারোপের ফলে আমদানিকারক ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে তার জন্য সরকারকে নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, চাল আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্তে বাজারে এর কোন বিরূপ প্রভাব না পড়ুক।

x