চার বছরেও হলের আসন বরাদ্দ না পাওয়ায় চবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

দুই দফা দাবিতে প্রক্টরকে স্মারকলিপি

চবি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
15

উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হল’-এ আসন বরাদ্দ পায়নি ছাত্রীরা। ফলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে ওই হলে সংযুক্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার আসন বরাদ্দসহ দুই দফা দাবিতে তারা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে তারা আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের আসন বরাদ্দের জন্য সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ এবং পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকার নেয়াপূর্বক আসন বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান। আবাসিক হলটিতে সংযুক্তি পাওয়া লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার ও বাংলা বিভাগের উম্মে হানিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হলের প্রভোস্ট স্যার আমাদের কথা দিয়েছিলেন জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আমরা হলে উঠতে পারব। ফলে আমরা এ মাসে বাসা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু হলের আসন এখনও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বই-খাতা সব বান্ধবীর রুমে রেখে তাদের সাথে গাদাগাদি থাকছি। পড়াশোনা করতে পারছি না। রিক্তা আহমেদ নামে পদার্থবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ১৮ মাস ধরে অন্য হলের গণরুমে থাকছি। কর্তৃপক্ষ সিট বরাদ্দ দিবে দিবে এখনো দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকারের তারিখ দিয়েও তিনবার পেছানো হয়েছে। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই। জানা যায়, ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আবাসিক হলটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আরো দুই হলের সমপ্রসারণ কাজ হয়। এই হলের শিক্ষার্থীদের সংযুক্তি দিয়ে প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়া হয়। তবে আবাসিক হলটির শিক্ষার্থীদের কোনো আসন বরাদ্দ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবাসন সংকটে থাকা শিক্ষার্থীরা বারবার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের কাছে দাবি জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বরং তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এর আগে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সমন্বিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী দ্রুত আসন বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত না হয়ে সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই অবস্থান নেন। অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ওই সময় উপাচার্য নিজেই শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দের সাক্ষাৎকারের তারিখ ঘোষণা এবং হলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর দুই দফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলের সঙ্গে এই হলটির সাক্ষাৎকারের তারিখও পেছানো হয়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও অনুষদের ডিনদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় আসন বরাদ্দের সাক্ষাৎকারের তারিখ পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে গত ২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণে সাক্ষাৎকার স্থগিতের বিষয়টি জানান। এদিকে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণব মিত্র বলেন, আমরা তাদের বিষয়টি নিয়ে মিটিংয়ে বসব। যত দ্রুত সম্ভব সেটি সমাধান করা হবে।

x