চারুতা সংগীত একাডেমির হৃদয়ে বাংলাদেশ

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
43

শিল্পকলা একাডেমির পুরো এলাকা ছোট বাচ্চাদের কিচির মিচির শব্দের মুখরিত হয়ে উঠেছে। কেউ সেজেছে পাহাড়ি ঢং এ, কেউ বৈরাগী। আবার কেউ বা বাঙালী সাজে, কেউ বা ওয়েস্টার্ন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শিশু শিল্পীরা। হাতের মুঠোয় গাদা ফুলের অসংখ্য পাপড়ী। অতিথিদের স্বাগত জানাতে ঠিক এবাবেই সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ছিলো চারুতা সংগীত একাডেমির শিশু শিল্পীরা। একটু পর অতিথিরা আসলো। বাচ্চাদের মধ্যে বয়ে গেলো আনন্দের জোয়ার। গান, নাচ, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো, যন্ত্র সংগীত, চিত্র প্রদর্শনী ও কথামালার মধ্যদিয়ে পালন করা হয় চারুতা সংগীত একাডেমির ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। গত ১৩ মার্চ বুধবার, বিকাল পাঁচটায় নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এ আনন্দ আয়োজন ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’। আয়োজনে চরুতার শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি আরো অংশগ্রহণ করেন ভারতে পশ্চিম বঙ্গ থেকে আগত পিস ওয়েল ফেয়ার অর্গানাইজেশনের শিল্পীরা।
ফিতা কেটে চিত্র প্রদশর্নীর শুভ উদ্ধোধন করেন শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব আ.জ.ম নাসির উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারগীস সুলতানা ও নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু। আবৃত্তিশিল্পী দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপত্তিত্ব করেন চারুতা সংগীত একাডেমির নির্বাহী পরিচালক ফজল আমিন (শাওন)। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে আগত পিস ওয়েল ফেয়ার অর্গানাইজেশনের পক্ষে শুভদিপ সেন। আয়োজনে চারুতা সংগীত একাডেমির পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয় ভারতের নৃত্য গুরু প্রণব স্যান্নাল’কে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পুরষ্কার তুলে দেয় আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সংগঠনের শিক্ষার্থীদের অংকন করা মোট ৩৭৪ টি ছবি থেকে বাছাই করে ১৮৮ টি ছবি নিয়ে প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এখানে স্থান পায় শিক্ষার্থীদের আঁকা বেশ কিছু রঙ-তুলির আছড় দেওয়া ছবি। মোঃ নাজমুল হাসান, উজ্জ্বল কান্তি দাশ ও তন্ময় মিত্র’র পরিচালনায় এখানে শিক্ষার্থীদের তিনটি বিভাগের ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পায়। কথামালা শেষেই শুরু হয় দেশের গানেই সাংস্কৃতিক আয়োজনের সূচনা। শুরুতে সংগঠনের শিল্পীরা বেশকিছু দেশের গানের সংমিশ্রণে তৈরী করে দলীয় সংগীত হৃদয়ে বাংলাদেশ। এখানে স্থান পায় ‘বাংলার হিন্দু, বাংলা মুসলিম’, ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে, ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে’, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানগুলো। এর পর পর আরো দুইটি দলীয় সংগীত ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ ও ‘কল কল ছল ছল’ পরিবেশন করেন সংগঠনের শিল্পীরা।
আয়োজনে আবৃত্তিশিল্পী এহতেশামুল হকের নির্দেশনায় আবৃত্তি বিভাগের শিল্পীরা ‘পণ্ডশ্রম’ শিরোনামে একটি বৃন্দ আবৃত্তি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। এরপর পর দলীয় গানের পর নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন সংগঠনের শিল্পীরা। পরিবেশন করেন ‘প্রজাপতি প্রজাপতি আমার ইচ্ছে করে বনে বনে’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন হৃদিতা, মেধা, যাহা, অশোক, আরাবি ও অপরাজিতা। অনুষ্ঠানের ভিন্নমাত্র নিয়ে আসে যন্ত্র সংগীত পরিবেশনা ও ফ্যাশন শো।
শাহেদ মঞ্জুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে গীটারের সুর তুলে সংগঠনের শিল্পীরা। এছাড়াও দেশের গানের সাথে ফ্যাশন কিউতে অংশগ্রহণ করে সংগঠনের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দ্বৈত কণ্ঠে মাহিয়া ও প্রিয়ন্তি পরিবেশন করেন ‘ভালো আছি ভালো থেকো’; জয়া ও নাফিসা পরিবেশন করেন ‘ওহে শ্যাম তোমারে রাখিব নয়নে নয়নে’ এবং দিপ্তী ও স্নিগ্ধা পরিবেশন করে ‘বাউলা কে বানাইলো রে, হাসর রাজা’ গানগুলো। যা বেশ দর্শকত নন্দিত হয়।
আয়োজনে সংগীত পরিচালনা করেন অসীম চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আজিজ ও রনি দাশ। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ফজল আমিন শাওন ও শাহিন আক্তার ডলি। আবৃত্তি পরিচালনায় এহতেশামুল হক। যন্ত্র সঙ্গীত পরিচালনায় মোঃ শাহেদ মঞ্জুর। চিত্রাংকণ প্রশিক্ষণে মোঃ নাজমুল হাসান, উজ্জ্বল কান্তি দাশ ও তন্ময় মিত্র। পুরো আয়োজনের সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন মনসুর মাসুদ, সূর্বনা দে, হোসনে আরা, এরিনা সুলতানা।

x