চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিন

বুধবার , ২৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
40

চামড়া খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। বলা হয়েছে, চীনের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশের চামড়া খাতের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। যদিও চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। শুধু চামড়ার পাদুকা রপ্তানি বেড়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আধুনিক ট্যানারি ও স্বতন্ত্র চামড়া শিল্প গড়ে তোলা হবে। সরকার ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চলের উপযোগী স্থান নির্ধারণে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উল্লিখিত দু’টি শহরে চামড়া শিল্প ও ট্যানারি নির্মিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রত্যেকটিতে বিশেষ করে চামড়া শিল্পের জন্য একটি করে স্থান রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
বাণিজ্য বিশ্বায়নের এ যুগে শিল্প তৎপরতার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ উপাদান হচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্য। রপ্তানি বাণিজ্য আমাদের শিল্প উদ্যোক্তাদের বিদেশি ক্রেতা ও বাজারের কাছে নিয়ে যায়। বিশ্ববাজারে রপ্তানির অর্থ হলো মূল্যের দিক থেকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মান একটানা উন্নত থেকে উন্নততর করা। ক্রেতা, বিক্রেতা, পণ্যের মান ও মূল্য-এগুলির মিথস্ক্রিয়ার ফলে শুধু রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান বাড়ে না বরং স্থানীয় বাজারের জন্য তৈরিকৃত পণ্যেরও মান বাড়ে ও ঐসব পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জিত হয়। রপ্তানি বাণিজ্য থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অন্যান্য দেশ থেকে প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা পণ্য আমদানি ও বিনিয়োগের জন্য একান্ত প্রয়োজন। উন্নতমানের পণ্য উৎপাদিত হলে দেশে অনুরূপ পণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। এছাড়াও রপ্তানি শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যা মোকাবেলায় রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের কর্মকাণ্ড বা সামগ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
চামড়া রপ্তানি বাড়াতে এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই আন্তরিক। তাঁরা বলেন, আমাদের দুটি বিষয় খুবই জরুরি। একটা হলো সাভারের সিইটিপিকে (কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা। প্রয়োজনে এক্ষেত্রে দক্ষ কোনো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে নিরীক্ষা করিয়ে দেখা যেতে পারে, কী কী ঘাটতি আছে। আবার পরিচালনার জন্য তার দায়িত্ব বিশ্বমানের কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যেতে পারে। পণ্যের সরবরাহ আদেশ পাওয়ার পর রপ্তানির মধ্যকার সময় (লিড টাইম) কমিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়ারহাউস তৈরির মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
শিল্পায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ, সামাজিক খাতে সরকারি বিনিয়োগ, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, আইনের কাঠামো সংস্কার করে বর্তমানে বিদ্যমান অন্তরায়গুলি অতি দ্রুত দূর করতে হবে। এছাড়া শিল্পায়ন সহায়ক কৌশলের বাস্তবায়ন মূলত রাজস্ব (আর্থিক), মুদ্রা ও ব্যাংকিং নীতির ওপর নির্ভরশীল বলে এসব নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, গত দুই বছরে চামড়ার জুতা, চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য পাদুকা উৎপাদনে প্রায় পঞ্চাশটি নতুন কারখানা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বেশ বড়। জাপান ও ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে বলেও জানা গেছে। এখন বিভিন্ন ব্রান্ডের চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে। যেগুলো তাঁরা তাঁদের দেশে নিয়ে গিয়ে ফিনিশিং দিয়ে মার্কেটে দিচ্ছে। এ কাজগুলো যেন আরো ভালোভাবে করা যায়, তার খেয়াল রাখতে প্রধানমন্ত্রী চামড়া ব্যবসায়ীদের আহবান জানিয়েছেন। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেছেন। তাঁর এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশি চামড়ার জুতা ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। এর পাশাপাশি রপ্তানি যাতে আরো দ্রুত করা যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

x