চাটগাঁইয়া মেজবান

সোমবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
909

চাটগাঁইয়া মেজবান বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী (ঐতিহাসিকও বটে) অনুষ্ঠান। বিভিন্ন বছরী, জেয়াফত, ফাতেহাসহ নানা উপলক্ষে এক বা একাধিক গরু, মহিষ জবাই করে সেগুলোর মাংস রান্না করে শয়ে শয়ে বা হাজারে হাজারে মানুষের আপ্যায়নের ব্যবস্থার নামটিই পরিণত হয়েছে মেজবান নামে। গত কয়েক দশক থেকে চট্টগ্রামের মেজবান সারাদেশে আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। মেজবানের জন্য রান্না করা মাংসের স্বাদ, গন্ধ আলাদা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ার কারণে বেশিরভাগ মানুষ মেজবানের প্রতি অধিক উৎসাহী হয়ে উঠতে দেখা যায়। এমনও দেখা যায় অনেকেই বিয়ে, ওয়ালিমা, আকীকাজাতীয় মূল্যবান এবং নানা পদের মুখরোচক খাবার সম্বলিত দাওয়াতের চেয়ে মেজবানীতে খাওয়াটাকে বেশি পছন্দ করে থাকে। যে কারণেই চাটগাঁইয়া মেজবান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে গেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলাসহ আশেপাশের জেলা উপজেলাগুলোতে মেজবান এতো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে চট্টগ্রামের অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় মেজবানীর মাংস ব্রান্ডিং রূপ পেয়েছে। এসব রেস্তোরাঁ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েই মেজবানী মাংস বিক্রি করছে। অবশ্য মেজবানী মাংসের প্রতি লোভাতুর মানুষরা এসব মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছে এবং মেজবানী মাংসের স্বাদও মেটাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র শাহাদাৎ বার্ষিকীতে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের জন্য করা চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মহিউদ্দীন চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত মেজবান চাটগাঁইয়া মেজবানকে আরো বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। শুধুমাত্র এই মেজবানকে কেন্দ্র করে ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে অধিকাংশ গরু মহিষ বৈধ অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশে আমদানি হয়ে থাকে। এক কথায় বলা যায় হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত চট্টগ্রামের মেজবান টিকে থাকবে তার নিজস্ব মহিমায়। চন্দনাইশ সাতকানিয়ার প্রসিদ্ধ মেজবানী বাবুর্চি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন মেজবানের মাংস রান্না করতে গেলে নিয়মিত এবং পরিচিত মসল্লার বাইরে আলাদা আরো কিছু মসল্লা যোগ করতে হয়, যেগুলো অনেকেই জানেনা। চট্টগ্রামের মেজবানের যে ঐতিহ্য তা কখনো ম্লান হবেনা বলেও মনে করেন বাবুর্চি ইদ্রিস। তবে মেজবানীর মাংস রান্না করাটা এখন একটি গবেষণার বিষয়। চাটগাঁইয়া মেজবানের উপর নির্মিত ফটো ফিচারের ছবি পরিচিতি- ১. চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ মেজবানে জবাই করার জন্য পশু বাজার থেকে কিনে আনা গরু। ২. মেজবান উপলক্ষে জবাই করা গরু ও ছাগলের মাংস কেটেকুটে রান্না করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ৩. গরু ও ছাগলের মাংসে বাবুর্চি নিজহাতে নানা পদের মসল্লা মেশাচ্ছে। ৪. চট্টগ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহী মেজবানীতে আমন্ত্রিতদের খাওয়াদাওয়া। বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত চাটগাঁইয়া মেজবান ঘুরে সেখান থেকে ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দী করে ফটো ফিচারটি উপস্থাপন করেছেন আজাদীর চন্দনাইশ প্রতিনিধি চৌধুরী শহীদ।

x