চাক্তাই খালে পণ্যবাহী বোটে চাঁদাবাজি

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
35

চাক্তাই খালে আসা পণ্যবাহী বোটগুলোতে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা এবার রাজপথে নেমেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার কয়েকশত ব্যবসায়ী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাক্তাই খালের কারণে এখনো খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের কিছু ব্যবসা টিকে রয়েছে। এখন খালটিতে দূর দূরান্ত থেকে আসা বোট ও ট্রলারগুলোতে চাঁদাবাজি চলছে।
জানা যায়, খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার গুদামগুলোতে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য লাগোয়া চাক্তাই খালে অসংখ্য ঘাট রয়েছে। ইঞ্জিনচালিত বোটে পণ্য উঠা-নামার সুবিধার্থে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থে ঘাটগুলো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ওই ঘাটগুলোতে কখনো টোল কিংবা ইজারা নেয় না সিটি কর্পোরেশন। সাম্প্রতিক সময়ে চাক্তাই খালের মোহনায় লবণবাহী ট্রলারগুলোতে টোল আদায়ের জন্য “চাক্তাই লবণ ঘাট” ইজারা দেয় সিটি কর্পোরেশন। ঘাটটি চাক্তাই চামড়া গুদামের দক্ষিণে চাক্তাই খালের মোহনায় হলেও ইজারা নেয়ার পর থেকে পুরো চাক্তাই খাল থেকে টোল আদায় শুরু করে ইজারাদার। এতে বেকায়দায় পড়ে বোটে পণ্য পরিবহন করা ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি মহলে দেন-দরবার করার পর বুধবার বিকেলে মানববন্ধন করে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধনে চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেকান্দর হোসেন বাদশা, চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক মীর আহমদ সওদাগর, চট্টগ্রাম রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্তু দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন, চাক্তাই চট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলী আব্বাস তালুকদার, চাক্তাই আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিক, ইব্রাহীম সওদাগর, মো. জাকারিয়া, মহিউদ্দিন বেলাল, আবদুর রহমান সওদাগর, স্বপন কুমার সাহা প্রমুখ।
চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, ‘খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে এখন আগের সেই জৌলুস নেই। ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত লোকসানের শিকার হচ্ছেন। মহাসড়কে ১৩ টনে বাধ্যবাধকতার পর থেকে সড়কপথে আগের মতো পণ্য পরিবহন হচ্ছে না। এখনো কিছু ব্যবসায়ী নৌপথে ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পণ্য পরিবহন করেন। সেই ট্রলার ও বোটগুলোতে ঘাটের টোলের নামে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হওয়ায় তাও বেহাত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমেছি। চাক্তাই খালে ব্যবসায়ীদের ঘাটগুলোতে কখনো টোল ছিল না। এখন লবণ ঘাটকে ঢাল বানিয়ে চাক্তাই খালের ব্যবসায়ীদের ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘাটগুলোতে চাঁদাবাজি শুরু করেছে কিছু চাঁদাবাজ। প্রত্যেক বোট থেকে ৫শ’ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে তারা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করছে। তাদের অতীত রেকর্ডও ভাল নয়।’
এব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এক বছর আগেও সিটি কর্পোরেশন লবণ ঘাট ইজারা দিয়েছিল। একই চক্র একটি ঘাট ইজারা নিয়ে পুরো খালে চাঁদাবাজি শুরু করলে আমরা সিটি মেয়রের সাথে বৈঠক করেছি। তখন মেয়র ওই ইজারা বাতিল করে। এবারও কয়েকদিন আগে আমরা মেয়রের সাথে বৈঠক করেছি। মেয়র লবণ ঘাটের ইজারা বাতিলের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
এবিষয়ে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘চাক্তাই খালের নৌকাগুলোতে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের ঘাটের ইজারা নিয়ে একটি ঝামেলার কথা আমি জানার পর সব বন্ধ করে দিয়েছি। চাক্তাই খালে নৌকাগুলো আগের নিয়মেই চলবে।’

x