চাক্তাই খালের স্লুইচ গেটের কাজে ধীরগতি

জলাবদ্ধতা আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

জাহেদুল কবির

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ
144

প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকেন ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। দোকানে-গুদামে জোয়ারের পানি ঢুকে বর্ষা মৌসুমে কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভাসে। তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাক্তাই খালের কর্ণফুলী মোহনায় জোয়ারের পানি প্রতিরোধক স্লুইচ গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। কিন্তু এর মধ্যে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্লুইচ গেটের নির্মাণ কাজ ১৫ শতাংশও শেষ হয়নি। এ কারণে চলতি বছরও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ৬ জুন স্লুইচ গেটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হলেও কাজ শুরু হয়েছে এ বছরের ফেব্রয়ারিতে। বর্তমানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এক সময় চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য হত। কালের পরিক্রমায় এখন সেই চাক্তাই খাল চীনের হোয়াংহো নদীর মত চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের দুঃখে পরিণত হয়েছে। দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, পলি জমে খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং তলা পাকাকরণের কারণে স্থায়ীভাবে নাব্যতা হারিয়েছে চাক্তাই খাল। ফলে নৌ-বাণিজ্য বর্তমানে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া জোয়ারের পানির কারণে অনেক ব্যবসায়ী চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে অন্যত্র ব্যবসা স্থানান্তর করে ফেলেছেন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, স্লুইস গেট নির্মাণ শুরু হওয়ার পর আশা করেছিলাম এবার হয়ত খাতুনগঞ্জে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে না। কিন্তু তা না হওয়ায় চলতি বর্ষাতেও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। তাই আমাদের দাবি, অন্তত চাক্তাই খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে পানি চলাচল যেন স্বাভাবিক রাখা হয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, দুই বছর আগে জলাবদ্ধতায় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। বৃষ্টি না হলেও বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমরা বিভিন্ন সময় জোয়ারের পানি প্রতিরোধক স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্লুইস গেট নির্মাণ এবং চাক্তাই খাল খনন ও পরিষ্কারে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও এই বর্ষাতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মুক্তি মিলবে বলে মনে হচ্ছে না।
এদিকে স্লুইস গেট নির্মাণে ধীরগতির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্লুইস গেট প্রকল্পের পরিচালক রাজীব দাশ বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে স্লুইস গেটের কাজ শুরু করতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি হয়ে যায়। এছাড়াও চাক্তাই খাল এখন পানিতে পূর্ণ থাকায় ধাপে-ধাপে কাজ করতে হচ্ছে। স্লুইস গেটটির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে আরো দেড় থেকে দুই বছর লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নগরীর কর্ণফুলীর শাখা খালগুলোতে ১২টি স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। এর মধ্যে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩০ ফুট উঁচু এবং ১২ মিটার প্রস্থের চাক্তাই খালের স্লুইস গেট নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।

x