চাই যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ যাবতীয় সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প

রবিবার , ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
45

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতিতে প্রধান অন্তরায় হলো এলাকার রাস্তাঘাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা। শহরের অভ্যন্তরের সড়কগুলোর দুর্বিষহ অবস্থা এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে দুর্গন্ধ ছড়ানো ময়লার স্তূপ পুরো নগরীর পরিবেশ বিপন্ন করে তুলেছে। এ বিষয়ে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক আজাদীতে। ‘কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা রাস্তাঘাট ও পরিবেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পে প্রত্যাশার কাছাকাছি অগ্রগতি ঘটলেও একটি বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসাবে বিকশিত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক দশা। বিমানে এক ঘণ্টারও কম সময়ে রাজধানী থেকে কক্সবাজারে পৌঁছা যায়। কিন্তু স্থলপথে আসা যাওয়া এখনও বেশ ভোগান্তির। সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। বিমানে দৈনিক হাজারের কম মানুষ আসা যাওয়া করতে পারেন। বাকিদের আসতে হয় স্থলপথেই। পথে পথে রাস্তাঘাটে রয়েছে নানা দুর্ভোগ। পর্যটন শহরের রাস্তাঘাটও বড় দুর্ভোগের। মেরিন ড্রাইভের প্রবেশ মুখ কলাতলীতে প্রায় ১ কি.মি ভাঙা রাস্তার কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র তীরবর্তী ৮০ কি.মি দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য ম্লান। শহরের অন্যান্য অংশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তারও করুণ দশা। এছাড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে খোলা ডাস্টবিন ও যত্রতত্র দুর্গন্ধ ছড়ানো ময়লার স্তূপ পর্যটন শহরের সাথে মানানসই নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের পর্যটন শিল্পের যে নাজুক পরিস্থিতি, তাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্প যে কী অবস্থায় আছে, তা সহজে অনুমেয়। তবু আমরা শিল্পের বিকাশের ব্যাপারে আশাবাদী। এ কথা অনস্বীকার্য যে, দেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও। আমরা যদি বৃহত্তর চট্টগ্রামের পর্যটন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করতে চাই, তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ‘কক্সবাজার’-এর নামটি সর্বাগ্রে চলে আসে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি টেকনাফ সৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, উখিয়া সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক প্রভৃতি নামও পর্যটন শিল্পের খাতায় চলে আসবে।
আমাদের কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হলেও যাতায়াত ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে আজও পর্যটন শিল্প হিসেবে বিকাশ লাভ করেনি। ইদানীংকালে সেখানে হোটেল শিল্প বিকাশ লাভ করলেও ‘পর্যটন কর্পোরেশন’-এর নিয়ন্ত্রণাধীন মোটেলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কক্সবাজারস্থ মোটেল গুলোতে ছাড়পোকা ও তেলাপোকার অবাধ বিচরণ বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সরকার কক্সবাজার রেল সার্ভিস চালু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের সাথে সরাসরি রেল সার্ভিস চালু হলে দেশের পর্যটন শিল্প অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কক্সবাজার রেল লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে এই লাইনের কাজ শেষ হবে এবং রেল যোগাযোগ শুরু হবে বলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল পথ নির্মাণ কাজে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকা যোগান দেবে। কেননা, পর্যটন শিল্পের বিকাশে কক্সবাজারের অবদান অপরিসীম।
কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের অগ্রগতি যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে পরিবেশের বিষয়টি নজরে রেখেই উন্নয়ন করতে হবে। পরিবেশ ঠিক না থাকলে পর্যটকরা স্বস্তি পাবেন না। কক্সবাজারের পাহাড়, সমুদ্র সৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিবেশ। সেটা পর্যাপ্ত না হলে মানুষ এখানে কেন আসবে? তাই রাস্তাঘাটের আরো উন্নয়ন ঘটিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলে এ শিল্পকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পর্যটনশিল্পের উন্নতির জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ পর্যটন ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।
আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কক্সবাজারকে একটি বিশ্বমানের পর্যটননগরী হিসাবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। আমরা চাই, কক্সবাজার দেশের পর্যটন শিল্পে আরো অবদান রাখুক। তারজন্য চাই যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ এখানকার যাবতীয় সমস্যা ও সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ।

- Advertistment -