চাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

বুধবার , ২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ
47

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বলা যেতে পারে, নিরঙ্কুশ। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল, যা জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টির বেসরকারি ফল প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৯টি আসন, এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) জিতেছে ২০টি আসন এবং বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৫টি আসন। এছাড়া, ওয়ার্কার্স পার্টি জিতেছে ৩টি আসন। জাসদ, বিকল্পধারা ও গণফোরাম পেয়েছে ২টি করে আসন। তরিকত ফেডারেশন ও জেপি পেয়েছে একটি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩টি আসন।
যদিও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করে এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের নেতারা একই সঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, আওয়ামী লীগের অভাবনীয় জয় এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবির কারণ কী কী, তা বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নেতৃত্বহীনতা, প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয়তা ও মনোনয়ন বাণিজ্যে যোগ্যদের বাদ পড়ার কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিরোধী জোটের। অন্যদিকে পরপর দুই মেয়াদে সরকার গঠন করে দেশের মানুষের জীবন-মান ও অবকাঠামোর উন্নয়নের কারণে জনগণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে ভরসা রেখে বিশাল জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে চাই, কেননা তিনি নিজে ঘোষণা দিলেন, তিনি কোনো দলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান না, সবার সব দলের -সব নাগরিকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, তিনি সকলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের অধিকার মানুষের, ভোট দেওয়ার সময় মানুষ যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে। কিন্তু ভোটের পর সবাই সমান। আমি সকলেরই প্রধানমন্ত্রী।
দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার জনগণের জন্য সব ধরনের কাজ করেছে, সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, সামাজিক সুরক্ষা দিয়েছে, অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছে, ডিজিটাল সুবিধা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা তৈরি করা, দারিদ্র্য বিমোচনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে নিয়ে যাওয়া, মাথাপিছু আয় সাড়ে সতের শ’ ডলারে উন্নীত করা, সরকারি কর্মচারী ও পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার কী হবে- সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার যেটা হবে, আমরা যেসব প্রকল্প ইতোমধ্যে নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন করা। আর এখন যেটা মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ ও সুরক্ষা দেওয়া। আমরা নির্বাচনের রায় মেনে নিয়েছি এবং দেশের উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগও এসেছে। এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের দেশের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ গত ১০ বছরে মানুষের জীবন-মানের যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তা আগামী পাঁচ বছরে আরও গতি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সুদৃঢ় করার জন্য নতুন সরকারকে আরো বেশি পরিমাণে শ্রম ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকার যদি আমলাতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে না পারে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ বুনিয়াদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য সুদৃঢ় নীতির ওপর ভিত্তি করে সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা না হলে আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি ধরে রাখতে পারব না। আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু অর্থনৈতিক উন্নতির জন্যই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি; বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। বাংলাদেশে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না পায়, তাহলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিতে জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মেটানো সম্ভব হবে না। সুতরাং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অবশ্যই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। এটাও হবে নতুন সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
আমরা চাই, সরকারের সকল পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই তা সম্ভব হতে পারে।

x