চাঁই কারিগরদের দুর্দিন

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ২৩ জুলাই, ২০১৮ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
30

বর্ষার এই ভরাট মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে চাই’র (মাছ ধরার ফাঁদ) চাহিদা বেড়ে যায়। মীরসরাই উপজেলার মিঠাছরা, আবুতোরাব, আবুরহাট, শান্তিরহাট ছিল ‘চাঁই হাট’ হিসেবে পরিচিত। আবার এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার এখনও এ চাঁইসহ মোড়া, খাচি, কুলা, ঝাপইন ইত্যাদি হস্তশিল্প তৈরিকে পেশা হিসেবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। কিন্তু পণ্যটি তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ, বেত ও লতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেকেই অর্থাভাবে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও বিভিন্ন এনজিও কিংবা গ্রাম্য সুদি কারবারিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এ কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক বা অর্থিক প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করলে পল্লীর মানুষরা তাদের দীর্ঘ দিনের পেশাকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চাঁই তৈরি করছেন ইছাখালী গ্রামের ভবরঞ্জন পাল (৫৫)। তিনি জানান, তাদের বাবার সময় থেকেই চাঁইসহ বিভিন্ন মৌসুমে বাঁশ বেতের বিভিন্ন পন্য তৈরির পেশায় নিয়োজিত। এই পণ্যগুলো তৈরির প্রধান উপকরণ হচ্ছে তলা বাঁশ, বেত ও কৈয়া লতা। বতর্মানে বেত দুষ্প্রাপ হওয়ায় বাঁশ ও লতা দিয়েই চাঁই তৈরি করা হয়। বারইয়াহাট বাজারে একসময় অনেক বাঁশ ও পাওয়া যেত যা দিন দিন কমে যেতে শুরু করেছে। শান্তিরহাট বাজারে তো নেই কোন বাঁশের হাটই।

তিনি আরও জানান, পানি বাড়লেই চাঁইয়ের কদর বেড়ে যায়। ২০০ টাকার বাঁশ, ২৫০ টাকার কৈয়া লতা দিয়ে একজন শ্রমিক পাঁচ দিনে এক বিশটা চাঁই তৈরি করতে পারেন। পাইকারদের কাছ থেকে দাদন আনার ফলে তাদের কাছে প্রতি কুড়ি চাঁই পাইকারি হিসেবে বিক্রি করা হয় ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকায়। বাজারে যার দাম আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। তৈরিকৃত এসব চাঁই এলাকার বিভিন্ন হাট সহ ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাটবাজারে বিক্রি করা হতো। কিন্তু এখন দিনে দিনে এলাকাতেই চাহিদা কমে গেছে। ভরা মৌসুমে ও এখন কেউ মাছের নেশায় খাল বিলে, জমির পাড়ে পাড়ে ঘুরে না। তাই চাই কারিগরদের দুর্দিন আর সুদিনে কি ফিরবে না ? অথচ এক সময় বামনসুন্দর খাল, ইছাখালী খাল, হিঙ্গুলী খাল, খৈয়াছরা খাল সহ উপজেলার অগণিত ছরা, খাল, বিলে চাই এ মাছ ধরা একধরনের উৎসবমুখর হতো এই দিনে।

x