চসিকের প্রকল্পে অনুমোদন ৩৮০ কোটি টাকা

একনেকে মীরসরাইয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
326

নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) গৃহীত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। তবে প্রকল্পটির ডিপিপিতে ৬৩০ কোটি প্রস্তাব করা হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকায়। প্রস্তাবিত প্রকল্প থেকে তিনটি খাত বাদ দেওয়ায় ব্যয় কমে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভায় ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় চট্টগ্রামের ‘মীরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্প এবং ৩২৪ কোটি টাকায় ‘মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন’ প্রকল্পসহ ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সাহায্য ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা, বাকিটা সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সড়ক নির্মাণের সব দিক দেখভাল করতে হবে, যেন পানি না জমে। সড়কের যে স্থান দিয়ে পানি গড়িয়ে যায়, সেখানে ছোট ছোট পাইপ স্থাপন করতে হবে, যেন পানি গড়িয়ে যাওয়ার সময় সড়ক না ভাঙে। সকল সড়কের মান এলজিইডিকেই নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বেহাল সড়ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সড়ক নির্মাণের আগে পুরনো সড়ক পুনঃমেরামত করতে হবে। বন্যা অথবা নানা কারণে ভেঙে যাওয়া সড়কগুলোকে আগের অবস্থায় নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
এদিকে চসিকের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, চসিকের প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপিতে ১০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮৯টি সড়ক উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৩৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। এছাড়া ৩৬টি ব্রিজ (মোট দৈর্ঘ্য ৬০৩ দশমিক ৬৭ মিটার) নির্মাণে ১২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং ১৩৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়কে বিদ্যুতায়নের (এলইডি লাইট দ্বারা) জন্য ৯৯ কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একনেক ব্রিজ নির্মাণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং আলোকায়ন অংশটি বাদ দিয়েছে। বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চসিকের প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন।
এদিকে গতকালের একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমেটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ’ প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। বেশি ব্যয়ের মধ্যে সংশোধিত আকারে ‘রংপুর বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। ৩ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’, ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ’, ৩৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন’।
‘পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৪৯১ কোটি টাকা, ‘শিশু ও নারী উন্নয়নমূলক’ প্রকল্পে ১৪০ কোটি টাকা এবং ‘চক্ষু স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অন্ধত্ব দূরীকরণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি, ‘ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ’ প্রকল্পে ১১৪ কোটি টাকা, এবং ‘ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপেহ্মক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনস্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পে ৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

x