চসিকসহ নানা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন সেবা, কমছে ভোগান্তি

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
179

চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে এখন ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি। পাশাপাশি বেসরকারি সেবাসংস্থাগুলোর অনলাইন সেবা নগরবাসীর সেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করেছে। এতে করে কমছে নাগরিকদের দুর্ভোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিও। অনলাইন নির্ভর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। তথ্য প্রযুক্তি খাতেও নতুন নতুন সেবা সুবিধা তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রামকে ঘিরে। ‘হাইটেক পার্ক’ ও ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ এর মধ্যে অন্যতম।
অনলাইন ব্যাংকিং : হোল্ডিং ট্যাক্সসহ (গৃহকর) রাজস্ব বিভাগের যাবতীয় কার্যক্রম ‘অনলাইন ব্যাংকিং’-এর আওতায় নিয়ে আসছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে ছয়টি ব্যাংকের সাথে চুক্তি করেছে চসিক।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চসিক রাজস্ব শাখাভুক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স, এস্টেট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন ফাইলিং এবং ট্রেড লাইসেন্সকে ‘ডিজিটালাইজেশন’ করছে। ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে রাজস্ব শাখার সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বিপরীতে যাবতীয় লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, মার্কেটের দোকান ভাড়া, উন্নয়ন চার্জ এবং ইজারাকৃত সম্পত্তির যাবতীয় কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলো পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর হলে নাগরিকরা ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত সেবাগুলো পাবেন। এতে সেবাপ্রত্যাশী লোকজনের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ম্যানুয়েল পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপান্তরেরও সহযোগী হবে চসিক।
চসিকের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলে নাগরিক সেবা আরো গতিশীল হবে। এতে নগরবাসী ঘরে বসেই সকল তথ্য-উপাত্ত পেয়ে যাবেন। ফলে হোল্ডিং কর ও রেট এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য করাদি পরিশোধ সহজ থেকে সহজতর হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পভুক্ত ‘হোল্ডিং ট্যাঙ’ এবং ‘ট্রেড লাইসেন্স’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ‘আরবান পাবলিক এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এঙেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির আওতায় ‘এস্টেট ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘অনলাইন ফাইলিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা
সেবা নিতে আসা নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে অনলাইন নির্ভর সেবা চালু করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা। এরই মধ্যে অনলাইন সিস্টেমের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই এ সেবা চালু হবে। চালু হওয়ার পর গ্রাহকরা ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে জানতে পারবেন এলএ শাখায় থাকা নিজের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থান। এছাড়া একই সিস্টেমে জানা যাবে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ আবেদন করার পর পরবর্তী সব ধরনের প্রক্রিয়া। সেখানে সংরক্ষিত থাকবে প্রকল্পের বিস্তারিত এবং আইন ও নোটিশের তথ্য। অনলাইনে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুবিধার্থে থাকবে আলাদা অপশন। এজন্য আলাদা লগইন প্যানেল রাখা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কিংবা হয়রানির শিকার হলে ভুক্তভোগী যাতে অভিযোগ করতে পারেন তার জন্যও পৃথক অপশন রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে অভিযোগ করা মাত্র তা পেজের এডমিনের কাছে চলে যাবে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সাইট নিয়ন্ত্রণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, অনলাইন সার্ভিস চালু হলে প্রায় তিন হাজার এলএ মামলার নথি সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। ১৯৪০-৫০ সালের ধুলো-ময়লায় ছিঁড়ে যাওয়া নথিগুলোও স্ক্যানিং করে অনলাইনে ঢোকানো হবে। এ সেবা বাড়াতে এখনো ওয়েবসাইটের ট্রায়াল চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন সেবা চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
গ্রাহকদের হয়রানি ও দুর্নীতি কমাতে নগরীতে নকশা অনুমোদনে অনলাইন সেবা চালু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। গত ৬ মে এ সেবা চালু হয়েছে। এ কার্যক্রম চালুর পর মাত্র ছয় কার্যদিবসে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান নামে একজন গ্রাহকের নির্মাণ ও ভূমি ছাড়পত্র অনুমোদন করেছে সিডিএ; যা আগে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেত।
সিডিএর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন করলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গ্রাহকদের সময় বাঁচবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদনের পর ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র আগের ৪৫ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিনে, নির্মাণ অনুমোদন ৪৫ দিনের পরিবর্তে ২০ দিনে এবং ভেরিফিকেশন তিন দিনে সম্পন্ন করা হবে। এতে মোট সময় লাগবে ৩৮ দিন, যা আগে লাগত ৯০ দিন। সব মিলিয়ে একটি নকশা অনুমোদনে সময় বাঁচবে ৫২ দিন। তাছাড়া বৃহদায়তন ও বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনে আগে যেখানে ১৩৫ লাগত, এখন লাগছে ৫৩ দিন।
এ প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আমরা একটি চেকলিস্ট দিয়েছি। চেকলিস্টে ১৭টি বিষয় রয়েছে। সবগুলো পূরণ করা থাকলেই আমরা আবেদন গ্রহণ করব। যেদিন আবেদন গ্রহণ করব তার ১৫ দিনের মধ্যেই গ্রাহককে অনুমোদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে জানাব, জানাতে বাধ্য থাকব।
হাইটেক পার্ক
চট্টগ্রামে পৃথক দুটি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। হাইটেক পার্কগুলো গড়ে উঠলে এ খাতে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের প্রসার ও বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
জানা গেছে, শহরের কালুরঘাট বিএফআইডিসি রোড সংলগ্ন ১১ দশমিক ৫৫১ একর জায়গায় প্রথম হাইটেক পার্কটি নির্মাণে গত ১১ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্র্ক কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ২২ মে ১০০ একর জায়গার উপর আরেকটি হাইটেক পার্ক নির্মাণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে হাইটেক শিল্পে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের প্রসার ও বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এছাড়া হাইটেক পার্ক নিয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। স্বল্প খরচে জায়গা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং উন্নত যাতায়াত সুবিধা থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এসব পার্কের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ছে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ হাইটেক পার্ক গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়বে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি পণ্য উদ্ভাবন ও তা বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সরকারের রপ্তানি আয় সংক্রান্ত অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে চট্টগ্রাম। হাইটেক পার্ক নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রামবাসী উপকৃত হবেন।
সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক
৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’-এর নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ শেষে সেখানে আড়াই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
এ পার্ক স্থাপনে ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই চসিক ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওই) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত ১১ মার্চ সেই সময়কার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সেই সময়কার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এটার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
চসিকের আইটি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান বলেন, এক লাখ স্কয়ার ফিট ফ্লোরে হবে এ পার্ক। বর্তমানে আইটি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আইটি ভিলেজ হলে সেখানে এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কম মূল্যে বরাদ্দ পাবে এবং তাদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
কল সেন্টার
নগরবাসীর নাগরিক সেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘কল সেন্টার’ চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ কল সেন্টারের হান্টিং নম্বর হচ্ছে ‘১৬১০৪’। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যেকোনো মোবাইল থেকে ডায়াল করে নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য, অভিযোগ বা পরামর্শ দিতে পারছেন নগরবাসী। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে এ সেবা।
হান্টিং নম্বরটিতে কল করে শহরের রাস্তাঘাট, ময়লা-আবর্জনা বা সড়কবাতিজনিত সমস্যা জানাতে পারছেন নগরবাসী। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্পোরেশন। পাশাপাশি চসিকের অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী যেমন, অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিবহন বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা, জন্ম-মৃত্যু সনদ, বয়স সনদ, ইপিআই কার্যক্রম নিয়ে তথ্য, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন কর, হোল্ডিং নম্বর প্রদান এবং পরিবর্তন ও পৃথকীকরণ, দোকান বরাদ্দ, হাট-বাজার ইজারা, বার্ষিক অনুদান, রাস্তা কাটার অনুমতি, সড়কবাতি রক্ষণাবেক্ষণ, রোড রোলার ভাড়া, হোটেল রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি খাবার রোধ কার্যক্রম, আবর্জনা অপসারণ, মশক নিধন, জাতীয়তা সনদ, চারিত্রিক সনদ, অবিবাহিত সনদ, বেকারত্ব সনদ, আয়ের সনদ ও পারিবারিক আদালত থেকে তালাক সংক্রান্ত নানা তথ্যও মিলছে এ কল সেন্টার থেকে। ঘরে বসে এসব সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত সকল নাগরিক সেবা দ্রুততর করতে এবং এক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কল সেন্টার চালু করেছি। কল সেন্টারে পাওয়া অভিযোগগুলো দ্রুত সমাধান করছি।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন সেবা খাতও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমেছে বহুলাংশে। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ ছাড়াও অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করা হচ্ছে। প্রবেশপত্র- সিগনেচার শিট, ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য, পরীক্ষক হিসেবে নিবন্ধন, নাম-বয়স সংশোধনের আবেদন করা যাচ্ছে অনলাইনে।
এছাড়া স্কুল-কলেজের স্বীকৃতি ও নবায়নের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে এবং হিসাব শাখাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানালেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের খুব সহজে ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানে যা যা পদক্ষেপ নিতে হয় তাই নেওয়া হবে। কারণ, প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে মানুষের ভোগান্তি তত কমবে।
হ্যালো সিএমপি
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘হ্যালো সিএমপি’ও বেশ সাড়া জাগিয়েছে। মূলত অ্যাপসের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, মাদক ও সাইবার ক্রাইমসহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে ২০১৭ সালে ‘হ্যালো সিএমপি’ নামে মোবাইল অ্যাপস চালু করেছে নগর পুলিশ। নিজের পরিচয় গোপন রেখে অথবা পরিচয় প্রকাশ করে যেকোনো ধরনের তথ্য এই অ্যাপসের মাধ্যমে সিএমপিকে জানাতে পারছেন নগরবাসী।
এ বিষয়ে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিষয়ে ভুক্তভোগী কিংবা সাধারণ মানুষ যাতে সহজে এবং নিরাপদে যেকোনো ধরনের তথ্য পুলিশকে দিতে পারে সেজন্য সিএমপি এই অ্যাপসটি চালু করেছে। এছাড়া ‘বিডি পুলিশ হেল্প লাইন’র মাধ্যমেও নগরী ও জেলার বাসিন্দারা সেবা পাচ্ছেন পুলিশ বাহিনী থেকে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু বক্কর বলেন, বিডি পুলিশ হেল্পলাইন অ্যাপসহ পুলিশের ফেসবুক পেজ ও অনলাইনে অন্যান্য মাধ্যমে যেসব অভিযোগ বা তথ্য জমা পড়ে সেগুলো ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে এসব তথ্য কমিশনার স্যারকে দেখানো হচ্ছে। সেখান থেকে পরে অভিযোগ বা তথ্যগুলোর বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বিভিন্ন থানায় পাঠানো হচ্ছে। আইসিটি বিভাগ নিয়মিত এসব কাজ করছে।

x