চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা

ট্রাক চালকের বিচক্ষণতায় রেহাই পেলেন গৃহবধূ, বাস চালক ও হেলপার গ্রেপ্তার

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৫ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
937

ট্রাক চালকের তাৎক্ষণিক বিচক্ষণতায় ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পেলেন এক গৃহবধূ। চলন্ত বাসে চালক ও হেলপার মিলে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করছিল। গৃহবধূর চিৎকারে গরু বোঝাই ওই ট্রাকের চালক বাসটির গতিরোধ করেন। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনতা মিলে বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করে। গত ১০ আগস্ট শনিবার রাত দেড়টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন এস এস খালেদ সড়কে চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার দু’জন হল- নগরীর এক নম্বর রুটের বাসচালক রবিউল আউয়াল (২২) ও সহকারী মো. হৃদয় (২৪)। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. হাবিবের ছেলে রবিউল আউয়াল থাকে নগরীর কালুরঘাট বাস টার্মিনাল এলাকায়। আর চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চির্কা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হৃদয় নগরীর চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট জাইল্যা পাড়ায় থাকে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আজাদীকে বলেন, নিপীড়িত ওই গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে নগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় থাকেন। তার বাবার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলায় এবং শ্বশুর বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়। তিনি নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন রাত ১১টার দিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, বাসার চাবি তিনি বাড়িতে ফেলে এসেছেন। এ কারণে তিনি বাকলিয়ায় না গিয়ে দেওয়ানহাট মিস্ত্রিপাড়ায় চাচাতো বোনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বহদ্দারহাটের বাসে ওঠেন। বহদ্দারহাটে নেমে তিনি এক নম্বর রুটের বাসে ওঠেন, যেগুলো দেওয়ানহাট পার হয়ে গন্তব্যে যায়।
বাসটি জিইসি মোড়ে যাওয়ার পর অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যান। এসময় রবিউল ও হৃদয় গৃহবধূকে দেওয়ানহাট মোড়ে নামিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাস চালানো শুরু করে। কিন্তু বাসটি লালখান বাজার মোড়ে এসে দেওয়ানহাটের দিকে না গিয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে কাজীর দেউড়ির দিকে রওনা হয়; সন্দেহ হওয়ায় ওই নারী জানতে চান বাস কোথায় যাচ্ছে। চালক-সহকারী তখন ধমক দিয়ে তাকে গাড়িতে বসে থাকতে বলে। ওই নারী বাস থামাতে বললেও তারা গাড়ি চালিয়ে যেতে থাকে।
গৃহবধূর অভিযোগ- তার কথা না শুনে দ্রুতগতিতে বাসটি চালিয়ে কাজীর দেউড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে যাওয়ার পর হৃদয় তার মুখ চেপে ধরে এবং ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে সিটের ওপর ফেলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূ এ সময় চিৎকার দেন এবং হৃদয়কে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই নারী বলেন, ‘আমি বাসের দরজা দিয়ে লাফ দিতে চাইলে হেলপারকে উদ্দেশ্য করে ড্রাইভার বলে, ‘মেইয়াটারে ধর শালা’। হেলপার তখন আমাকে ধরে রাখে। ড্রাইভার তখন কাজীর দেউড়ির দিকে গাড়ি চালাতে থাকে।’
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘বাসের পেছনে ছিল গরুবোঝাই একটি ট্রাক। ট্রাকের চালক চিৎকার শুনে দ্রুত ট্রাকটিকে বাসের সামনে নিয়ে গতিরোধ করে। এ সময় গৃহবধূ দ্রুত বাস থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বাসের চালক ও সহকারীকে ধরে ফেলে। এর মধ্যে টহল পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়।
ওসি বলেন, মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার দু’জন। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাসটিও পুলিশ জব্দ করেছে।

x