চম্পা চক্রবর্তী (হারিয়ে যাওয়া আনন্দ)

মঙ্গলবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
40

‘বাজল তোমার আলোর বেনু’ মহালয়া আসলে মনে হয় পূজো চলে আসল। ভোর বেলা উঠেন রেডিও তে মহালয়া শুনার সে যে কি আনন্দ। কাউকে ডাকতে হতো না, নিজে নিজে উঠে যেতাম সেই কবে কখন কতদিন আগের রেকর্ডিং করা মহালয়া এখনও যেন নতুন সুরে বাজে। মহালয়ার ১০ দিন পর মূল পূজা শুরু হয়। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, তারপর দশমী। আমরা ভোরে উঠে স্নান সেরে পূজার ফুল তুলে মন্দিরে যেতাম। ১০৮টি পদ্ম ফুল ফুটাতে হত। মাইকে বাজত পূজার গান। অঞ্জলি শেষে প্রসাদ নিরে ঘরে ফেরা। সারাবছর টাকা জমিয়ে রাখতাম পূজার সময় বাজি কিনব, আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠাই, কিনব বলে। মা বড় একটা কাপড় কিনে তা দিয়ে সব ভাই বোন দের একই রকমের জামা বানিয়ে দিত সেই একটা জামা দিয়ে পুরো পূজা শেষ। এখন দশটা শাড়িতেও সেই আনন্দ, সেই সুখ খুঁজে পাই না। রাতে সবাই মিলে পূজা দেখতে যাওয়া, মন্দিরে ধনুচি নাচ, ঢাক বাজানোর প্রতিযোগিতা। সবাই ধনুচি নাচ আর ঢাক বাজানোর মধ্যে হত নাচ। মণ্ডপে, মণ্ডপে প্রসাদ দেওয়া হত ও প্রসাদ খেয়ে আমরা পুজা দেখতাম।
কষ্ট লাগে এখনকার সন্তানদের মধ্যে এসব আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা ভোরে টিভিতে মহালয়া দেখতেও উঠে না। আট দশটা জামা কিনলেও হয় না। আবার এখন দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিয়ে, গায়ে হলুদ, বিশেষ অনুষ্ঠানে একই রকম মিলিয়ে জামা পড়তে, তাহলে কি আগের রীতিগুলো ফিরে আসছে। কি জানি, মণ্ডপে এসে গেছে ধনুচি আর ঢাকের জায়গায় ডি জে। দেখার বিষয়ও নাই আর আনন্দও কমে গেল। নবমীর রাত থেকে মন খারাপ হয়ে যেত কালকে মাকে বিদায় দিতে হবে। একবছরের জন্য, সকালে উঠে স্নান সেরে অঞ্জলি দিয়ে বাড়ির আর আশেপাশের বড়দের প্রণাম করে প্রণামি পাওয়ার আনন্দ। বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন। আবার এক বছর অপেক্ষা। মন কে আশ্বাস দেওয়া ‘আসছে বছর আবার হবে’।

x