চবি রেললাইনের সংস্কার কাজ আগামী মাসে শুরু

যুক্ত হবে নতুন ট্রেনও

শুকলাল দাশ

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
53

রেলমন্ত্রীর নির্দেশের পর নড়বড়ে-জরাজীর্ণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেললাইনের সংস্কার কাজ আগামী মাসে শুরু হচ্ছে। একই সাথে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে চট্টগ্রাম নাজিরহাট ও চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের সংস্কারও। নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার এই লাইনের অবস্থা খুবই নাজুক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই লাইন দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে। গত ২৫ জুলাই রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শাটল ট্রেনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এই লাইন সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় রেললাইনের দুরাবস্থা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাথে সাথে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীনকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেললাইন সংস্কারের জন্য নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর অবশেষে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ।
এ ব্যাপারে গতকাল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন জানান, আগামী মাসেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেললাইনের কাজ শুরু হবে। রেললাইনের পাশাপাশি ব্রিজগুলোও নতুন ভাবে করা হবে। আপাতত আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্প থেকে এই রুটের খারাপ স্পটগুলো সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটেরও সংস্কার হবে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ষোলশহর পর্যন্ত তিন রুটের কাজ এক সাথে হবে। এরপর দোহাজারী এবং নাজিরহাট রুটের খারাপ স্পটগুলো সংস্কার করা হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রুটে শাটল ট্রেন চলাচল শুরু হয়। নগরীর বটতলী স্টেশন ও ষোলশহর জংশন থেকে ক্যাম্পাসমুখী এবং ক্যাম্পাস থেকে শহরমুখী প্রতিদিন মোট ১৮ বার শাটল ও ডেমু ট্রেন যাতায়াত করে। বর্তমানে দুটি শাটলের প্রতিটি ৭-১০টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া দুটি ডেমু ট্রেনসহ শাটলগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৭ হাজার শিক্ষার্থী চবি ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে। চবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রেললাইনটি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন ট্রেনের জন্য। সেই দাবির প্রেক্ষিতে আগামী বছরের মধ্যে তারা নতুন ট্রেনও পাবে বলে রেল সূত্র জানিয়েছে।

x