চবিতে হল থেকে খালেদার নাম মুছে ফেলায় চার সংগঠনের নিন্দা

চবি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
396

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একটি আবাসিক হল থেকে ছাত্রলীগ কর্তৃক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলসহ চার সংগঠন। গতকাল বুধবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সাদা দলের মুখপাত্র ড. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং একই সাথে খালেদা জিয়া হলের নামফলক পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণকৃত হলের নামফলক তুলে ফেলা একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ঘটনা। যা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নামকরণ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ পর্ষদ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং এটির পরিবর্তন, পরিমার্জন অবশ্যই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এর বাইরে কোনো কিছু করা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নামান্তর।’
একই ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ যাকারিয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হল থেকে খালেদা জিয়ার নাম তুলে ফেলে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ৪৪ শিক্ষকের স্বাক্ষর সম্বলিত বিবৃতি দিয়েছে চবি জিয়া পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলো হয়, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতি সন্নিকটে। এ নির্বাচনের জন্য সমগ্র জাতি যখন অধির অপেক্ষায় আছে, ঠিক তখনি একটি ছাত্র সংগঠনের এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে দেশের গণতন্ত্র বিকাশের পথকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং জাতিকে এক অন্ধকার ভবিষতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
এদিকে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা ভিসিকে বিষয়টি অবহিত করে নামফলক পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান। তবে এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা কোনো সংগঠনের কিনা আমি জানি না।’
এছাড়া নাম মুছে ফেলার ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খুরশেদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ‘সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ একের পর এক অপকর্মের দ্বারা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করে যাচ্ছে। বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মারামারি-খুনোখুনি, চাঁদাবাজি, ল্যাপটপ চুরি, মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই- যা তারা করছে না। তাদের এসব অপকর্ম ঢাকতেই তারা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত এ হীন কার্যে লিপ্ত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে বেগম খালেদা জিয়া হলের নামফলক তুলে ফেলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এছাড়া সড়কে থাকা ওই হলের সাইনবোর্ড থেকেও খালেদার নাম মুছে ফেলা হয়। এসময় তারা বীর প্রতীক তারামন বিবির নামে হলটি নামকরণেরও দাবি জানান।

x