চন্দনাইশে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

শঙ্খনদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৯:৩০ অপরাহ্ণ
525

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। ফলে চন্দনাইশ উপজেলায় বন্যা পরিস্থির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া (কসাইপাড়া) পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।

গত ৬ দিনের টানা বর্ষণের ফলে শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর বারুদখানা, রায়জোয়ারা, দিয়াকুল, লালুটিয়া, বৈলতলী, বরমা এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে তীব্রগতিতে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ শুরু হয় যা আজ শুক্রবার দ্বিতীয়দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। ফলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বসতঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়।

উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, হাশিমপুর, সাতবাড়িয়া, বরকল, বরমা, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নে বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় সব পরিবারের লোকজন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে অন্যত্র সরে যেতেও দেখা গেছে। উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে তীব্র গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি।

উপজেলার হারলা এলাকার মানিক কান্তি নাথ নামে এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘ ৬ দিন ধরে এলাকার সকল গ্রামীণ সড়ক ডুবে থাকলেও আজ ১২ জুলাই সড়কের উপর পানির উচ্চতা আরো বেড়ে গেছে। ফলে তার অসুস্থ ছেলেকে কোলে নিয়ে পানির মধ্যেই দেড় কিলোমিটার হেঁটে ডাক্তারের কাছে আসতে হয়েছে।

আজ বিকেল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ডুবে ১ ফুট উঁচুতে তীব্র গতিতে পানি চলাচল করছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে টানা ৬ দিন ধরে ডুবে রয়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত। পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকদের উৎপাদিত ঢেঁঢ়শ, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, চিচিংগা, শসা, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন বর্ষাকালিন সবজির ক্ষেত।

গত শনিবার থেকে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কগুলোও ডুবে আছে পানির নিচে। ফলে সাধারণ মানুষকে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। আউশের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে কৃষকরা নতুন করে আর আউশ ধানের চাষ করতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে শতাধিক মাছের প্রজেক্টও ভেসে গিয়ে চরম লোকসানে পড়েছে মৎস্য খামারিরা। দোহাজারী এলাকার মৎস্য খামারি মো. মামুনুর রশিদ জানান, ছয়দিনের টানা বর্ষণে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করায় গত ১১ জুলাই রাতেই তার মাছের প্রজেক্ট ভেসে যায়। এতে তার কমপক্ষে ৩ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে।

বড়পাড়া এলাকার মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রতি বছর বর্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এ অংশটি ডুবে যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হলেও কর্তৃপক্ষ সড়কের এ স্থানটি উঁচু কিংবা পানি নিষ্কাষনের জন্য কালভার্ট নির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে না।

এদিকে বন্যার পানিতে এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়েছে। স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

x