চন্দনাইশে বিস্তীর্ণ উপকূলে আখ চাষের বিপুল সম্ভাবনা

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
65

শঙ্খনদী তীরবর্তী ও পাহাড় বেষ্টিত চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলে বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে চন্দনাইশে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি কানি (৪০ শতক) জমিতে আখ চাষ করে ৫০ হাজার টাকা আয় করছে কৃষকরা।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চন্দনাইশ উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ১শ ৬০ মেট্রিক টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর। শঙ্খনদী তীরবর্তী উপজেলার ধোপাছড়ি, দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর, জামিজুরী, জঙ্গল জামিজুরী, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, বরমা, বরকল, হাশিমপুর, জঙ্গল হাশিমপুর, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা ও চন্দনাইশ পৌরসদর এলাকার হারলা, জোয়ারাসহ বিস্তীর্ণ উপকূল ও পাহাড়ের পাদদেশে আনুমানিক সহস্রাধিক কৃষক আখ চাষের সাথে জড়িত আছেন। এখানকার চাষিরা স্থানীয় ও রং বিলাস নামের দুই প্রজাতির আখ চাষ করে থাকেন।
সাতবাড়িয়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, এই মুহূর্তে আখ ক্ষেত পরিচর্যা, ক্ষেত থেকে আখ কাটা এবং আখ বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
সাতবাড়িয়া এলাকার হাছনদন্ডি ব্লকে এবার ১৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার মধুসূদন চৌধুরী। তিনি বলেন, এখানকার অনেক চাষি আখ চাষে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানান, ১ কানি জমির আখ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। তবে ১ কানি আখ চাষে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলেও জানালেন তিনি। হাছনদন্ডি ব্লকের মোহাম্মদখালী এলাকার ইসহাক মিয়ার ছেলে আখ চাষি এস্তাত মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১ কানি জমিতে আখ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তার আখ ক্ষেতটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি জানালেন, আখ চাষে লাভ বেশি। পাশাপাশি আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে আলুসহ অন্যান্য ফসলেরও চাষ করা যায়। আখ চাষের সাথে এটি তাদের বাড়তি আয় বলেও জানান তিনি।
দোহাজারী পৌরসভার আখ চাষি আবদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১ কানি জমিতে আখ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় তার আখ ক্ষেত বিক্রি করেছেন। দোহাজারী ব্লকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশ জানান, দোহাজারী পৌরসভায় ২৫ জনেরও অধিক কৃষক ২ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছেন। অনেকেই আখ চাষে সফলতা পেলেও বিগত বন্যায় তার আওতাধীন পূর্ব দোহাজারী, রায়জোয়ারা, চাগাচর এলাকার আখ চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তবে আখ চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষিখাত বলে জানালেন তিনি।
কৃষকরা জানান তাদের চাষকৃত আখ নরম হওয়ায় চিবিয়ে রস খাওয়া যায়। রসও খুব মিষ্টি। ফলে পাইকারী ব্যবসায়ীরা আখ নিয়ে ট্রাকযোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করেন।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক সহস্রাধিক কৃষক আখ চাষের সাথে জড়িত। চলতি মৌসুমে ৮০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে আখ চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা আখ চাষে লাভের মুখ দেখছেন। তিনি বলেন, আখ উৎপাদনে ঝুঁকি কম, এছাড়া এর সাথে ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশি লাভবান হন।

x