চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
25

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। গত ৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর গতকাল সকাল থেকে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর বারুদখানা, রায়জোয়ারা, দিয়াকুল, লালুটিয়া, বৈলতলী, বরমা এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ও খাগরিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু পয়েন্টে নদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এছাড়া আরো নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।
চতুর্থ দিনের মতো উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে থাকায় স্থানীয়দের চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। এছাড়া দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি কাঁচা বসতঘর ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। টানা ৪ দিন ধরে উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানির নিচে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকদের উৎপাদিত ঢ়েডশ, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, চিচিংগা, শসা, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত। আউশের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে কৃষকরা নতুন করে আর আউশ ধানের চাষ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মাছের প্রজেক্টও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে বেশকিছু সবজি ক্ষেত ও আউশের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। তবে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে বড় ক্ষতির আশঙ্ক্ষা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ী ঢলের প্রভাবে উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ১ জন টেক অফিসার প্রতিনিয়ত বন্যা পরিস্থিতির খবর নিচ্ছেন। উপজেলার স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণও মজুদ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তা বিতরণ করা হবে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

x