চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যান চলাচল স্বাভাবিক

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

মঙ্গলবার , ১৬ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
38

চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ভাসার পর গত ১৪ জুলাই রাত থেকে লোকালয়ে পানি কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়ায় (কসাইপাড়া) চট্টগ্রাম-কঙবাজার মহাসড়কের ওপর এখনো বন্যার পানি প্রবাহিত হলেও যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে এখনো যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
এদিকে উপজেলার গাছবাড়িয়া-চন্দনাইশ-বরকল (শহীদ মুরিদুল আলম সড়ক) জেলা সড়কের সাতঘাটিয়া পুকুর পাড় থেকে বরকল ব্রিজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক দুদিন ধরে ৪ ফুট পানির নিচে ডুবে আছে। এছাড়া পটিয়া-চন্দনাইশ-বৈলতলী জেলা মহাসড়কের ৯ম কিলোমিটার থেকে ১১তম কিলোমিটার পর্যন্ত তিনদিন ধরে ৩ ফুট পানির নিচে ডুবে আছে। এ দুটি সড়কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা বলে দোহাজারী সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
গত ১১ ও ১২ জুলাই শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করলে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ১২ জুলাই রাতের বেলা বন্যার পানি কিছুটা কমে আসলেও ১৩ জুলাই দুপুর থেকে পুনরায় বাড়তে থাকে। যা বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যায় রূপ নেয়। ফলে অনেককেই নিজস্ব বসতঘর ছেড়ে নৌকায় কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ভয়াবহ এ বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক। সড়কের ওপর থেকে পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত হওয়ায় রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জনজীবন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পায়ে হেঁটেই লোকজনকে দৈনন্দিন কাজকর্ম সারতে হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া (কসাইপাড়া) এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হলেও যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে গত ১৩ ও ১৪ জুলাই দুদিন মহাসড়কের এ অংশ দিয়ে দীর্ঘ যানজটে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
বাগিচাহাট এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হক জানান, প্রতিবছর বর্ষায় মহাসড়কের এ অংশ দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি চলাচল করে। এতে প্রতিবছরই যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হয়। বছরের পর বছর ধরে এ ধারাবাহিকতা চলে আসলেও কর্র্তৃপক্ষ মহাসড়কের এ অংশে বন্যার পানি নিষ্কাষণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে।
সাতকানিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়নে যায়, শঙ্খনদের পানির তোড়ে সেখানে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ গ্রামের প্রধান সড়ক কালিয়াইশ-ধর্মপুর সড়কটির ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ৬নং ওয়ার্ডের দুটি স্থানে ৩০/৩৫ ফুট পর্যন্ত সড়ক উপড়ে গেছে। ফলে এ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এছাড়া উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, বরকল, বরমা, বৈলতলী, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা ও দুর্গম ধোপাছড়ি ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রামীণ সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।
এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল দোহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া চন্দনাইশ সমিতি-চট্টগ্রামের উদ্যোগেও বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

x