চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপরে

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
653

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

গত ৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর বারুদখানা, রায়জোয়ারা, দিয়াকুল, লালুটিয়া, বৈলতলী, বরমা এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ও খাগরিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু পয়েন্টে নদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ফলে উপজেলায় আরো নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। ৪র্থ দিনের মতো উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নীচে ডুবে থাকায় সাধারণ মানুষদের চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি কাঁচা বসতঘর ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

টানা ৪ দিন ধরে উপজেলার বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানির নিচে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকদের উৎপাদিত ঢেঁঢ়শ, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, চিচিংগা, শসা, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত।

গত শনিবার থেকে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কগুলোও ডুবে আছে পানির নিচে। ফলে সাধারণ মানুষকে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

আউশের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে কৃষকরা নতুন করে আর আউশ ধানের চাষ করতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মাছের প্রকল্পও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করায় যেকোনো মুহূর্তে ডুবে যেতে পারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর বড়পাড়া পাঠানীপুল অংশ। এ এলাকায় মহাসড়ক ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে। মহাসড়ক ডুবে গেলে কক্সবাজারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

এ এলাকার মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রতি বছর বর্ষায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এ অংশটি ডুবে যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হলেও কর্তৃপক্ষ সড়কের এ স্থানটি উঁচু করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে বেশকিছু সবজি ক্ষেত ও আউশের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেলেও তেমন ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, ‘কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো পর্যন্ত তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন টেক অফিসার প্রতিনিয়ত বন্যা পরিস্থিতির খবর নিচ্ছেন। উপজেলার স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণও মজুদ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে তা বিতরণ করা হবে। এছাড়া আশ্রয়ন কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

x