চন্দনাইশে দু’পক্ষের সংঘর্ষ একজনকে কুপিয়ে জখম

পূর্ব বিরোধের জের

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

সোমবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
91

চন্দনাইশের হাছনদণ্ডি মাঝিরপাড়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো কিরিচের কোপে একজন গুরুতরসহ উভয় পক্ষের প্রায় ৮/১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন (৪৬) স্থানীয় মৃত আবদুস সালামের পুত্র। তবে আহত অন্যান্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের নাম জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের আদালতে করা একটি মামলার ঘটনার জের ধরে জহির উদ্দীন বাবুল ও মোহাম্মদ নেছার গ্রুপের সাথে সাবেক ইউপি মেম্বার মতিউর রহমান মতি গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত ৬ অক্টোবর শনিবার সকাল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে লাটিসোটা নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। থেমে থেমে সংঘটিত এ ঘটনা সন্ধ্যার পর ভয়াবহ রূপ নেয়। সন্ধ্যায় মতি মেম্বার গ্রুপের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নেছারের বড়ভাই কামাল উদ্দীনকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা মারা গেছেন ভেবে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এখনো পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার মতিউর রহমান মতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় জহির উদ্দীন বাবুল ও মোহাম্মদ নেছার তাকে বাড়িঘরে যেতে বাঁধা এবং হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন। গতকাল শনিবার তার ছেলেকে বাড়িতে দিতে গেলে বাবুল-নেছারের লোকজন বাঁধা দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ নেছার জানান, আক্কাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ২০১৬ সালে বাবুল ও নেছারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। গত কিছুদিন আগে আক্কাসের সাথে বাবুল-নেছারের আপোষ হয়ে যায় এবং মামলা চালাতে অপারগতার প্রকাশ করে হলফনামা দেন। এতে মতি মেম্বার অসন্তুষ্ট হন। মামলায় আপোষের কারণে মতি মেম্বার আমার (নেছার) এবং বাবুলের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকার করি। এতে আমাকে হত্যার উদ্দেশে ভাড়া করা লোক নিয়ে হামলা চালায়। কিন্তু আমাকে না পেয়ে তারা আমার বড়ভাইকে কুপিয়ে জখম করে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেশব চক্রবর্ত্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মতি মেম্বার ও নেছার আপন চাচাতো জেটাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল এবং এ ঘটনার জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশী টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

x