চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বের একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস

রতন বড়ুয়া ও আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
129

প্রাকৃতিক নিঃসর্গে ঘেরা মোহনীয় এক ক্যাম্পাসের নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি বাঁকে যেন আঁকা রয়েছে সবুজের পদচিহ্ন। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার অদূরে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাসজুড়ে যেন মৌনতা। তবে সকাল হতেই আঁকা-বাঁকা পথে বিশ্ববিদ্যালয় পানে ছুটে চলে এক জোড়া শাটল। শাটলের বুকে-পিঠে চড়ে ক্যাম্পাসের পথে পা বাড়ায় হাজারো শিক্ষার্থী। প্রায় পৌনে ঘন্টার জার্নি শেষে শিক্ষার্থীরা শাটল থেকে নামতেই যেন আড়মোড়া ভাঙে ক্যাম্পাসের। মৌনতা ভেঙে যেন প্রাণ ফিরে আসে ক্যাম্পাসজুড়ে। নির্জীব ক্যাম্পাস নিমিষেই হয়ে ওঠে সতেজ-সজীব। দেশের তো বটেই সারা বিশ্বেও বতর্মানে একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সবুজ ঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর হাটহাজারীর ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৫৪ একর জমি জুড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও চট্টগ্রাম বিভাগে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছিলনা। যার ফলে স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে চট্টগ্রামের অধিবাসীরা। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর, কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উপস্থাপন করেন এবং একই লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ভূমি কেনেন। দুই বছর পর ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন। ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম কলেজকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের জনশিক্ষা উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদাউস খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। একই বছর ১৯৬২ সালের নির্বাচন প্রচারণায় ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচন পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রথমদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। তবে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে ফজলুল কাদের চৌধুরী মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সভাপতিত্ব করার সুযোগে ওই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ টি এম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন ফজলুল কাদের চৌধুরী। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং ড. কুদরাত-এ-খুদা, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ড. মফিজউদ্দীন আহমদকে সদস্য নির্বাচন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠিত হয়। এই কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৬৪ সালের ১৭-১৯ জুলাই পাকিস্তানের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
শুরুর কথা : মাত্র চারটি (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি) বিভাগে ২০৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের। যাত্রালগ্নে শিক্ষক ছিলেন হাতেগোনা ৮ জন। প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান (এ আর) মল্লিক।
বর্তমান চিত্র: হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৫৩ বছরে পদার্পণ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। যাত্রালগ্নের চারটি বিভাগের স্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৮টি বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ৭টি ইনস্টিটিউট এবং ৬টি গবেষণা কেন্দ্র। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ছুঁই-ছুঁই (২৯ হাজার)। আর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৮৯০ জন শিক্ষক।
আবাসন ব্যবস্থা : শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ১৪টি আবাসিক হল। এর মধ্যে ৮টি ছাত্রদের এবং ৪টি ছাত্রীদের। আর সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি ছাত্রাবাস বর্তমানে নির্মাণাধীন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরের বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ছাত্রাবাস রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী এসব হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন বাসা ও কটেজে থাকছে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী। বাকি সিংহ ভাগ শিক্ষার্থী শহরের বিভিন্ন বাসা ও মেসে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরে থাকা এসকল শিক্ষার্থীর যাতায়াতের সুবিধার্থে একজোড়া শাটল ও একটি ডেমু ট্রেন চালু রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শাটল নিয়ে কিছু তথ্য : শহর থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শাটল ট্রেন চালু হয়। বাংলাদেশের আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনের সুবিধা নেই। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়েও বর্তমানে শাটলের ব্যবস্থা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও কয়েক বছর আগে তা বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে সবুজ ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসই এখন বিশ্বে একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বয়ে আনা এ শাটল যেন কালের সাক্ষী ও বহু ঐতিহ্যের ধারক। ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার পথে পুরোটা সময়জুড়ে গানে-গানে মুখর থাকে শাটলের সবকয়টি বগি।
দিনের পর দিন বগি চাপড়িয়ে গানে-গানে শাটল মাতিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীরাই। রক-র‌্যাপের পাশাপাশি জারি-সারি, ভাটিয়ালি, প্যারোডি, পাহাড়ি ও বাংলা সিনেমার গানসহ এমন কোন গান হয়তো বাদ নেই, যা শাটলে গাওয়া হয়না। এ শাটলে বগি চাপড়িয়ে গান গেয়ে ইতোমধ্যে দেশবরেণ্য তারকার খেতাবও কুড়িয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী নকিব খান, পার্থ বড়ুয়া ও এস আই টুটুলের মতো দেশ বরেণ্য শিল্পীর নাম।
আন্দোলনের হাতিয়ার : একজোড়া শাটল ও কয়েকবছর আগে যুক্ত হওয়া একটি ডেমু ট্রেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনে মোট ১৮ বার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সিংহভাগ শিক্ষার্থী আনা-নেওয়াকারী এ শাটল ট্রেন চলাচল করলেই কেবল প্রাণ ফিরে আসে গোটা ক্যাম্পাসের। আর শাটল বন্ধ থাকলে যেন মৌনতা ভর করে গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে। যার কারণে ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি-দাওয়া আদায়ের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে এই শাটল ট্রেন। যে কোন আন্দোলনে আগে খড়গ নেমে আসে এই শাটলের উপরেই। দাবি-দাওয়া আদায়ে আটকে দেয়া হয় শাটল চলাচল। কারণ, শাটল চলাচল বন্ধ তো, অঘোষিত ভাবে ক্যাম্পাসও যেন বন্ধ। দিনের পর দিন এভাবেই চলে আসছে। দর্শনীয় স্থান : প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে গড়ে ওঠা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে বেশ কয়টি দর্শনীয় স্থান। যার মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন, হেলিপ্যাড, ঝর্ণা, ঝুলন্ত ব্রিজ, চালন্দা গিরিপথ, জীববিজ্ঞান অনুষদ পুকুর, প্যাগোডা, স্লুইচ গেট, ভিসি হিল, টেলি হিল, হতাশার মোড়, দোলা সরণী ও ফরেস্ট্রি অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী চত্বর, ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য, মুক্তমঞ্চ, জারুলতলা, লাইব্রেরি চত্বর ও সুনামি গার্ডেন।
টিএসসির অভাব: প্রতিষ্ঠার এতবছর পরও একটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) পায়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিনিয়ত যার অভাব বোধ করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আর টিএসসির অভাবে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ও হল সংলগ্ন ঝুপড়িগুলোই শিক্ষার্থীদের মূল আড্ডা স্থলে রূপ পেয়েছে।
অবশ্য, আড্ডার পাশাপাশি গ্রুপ স্টাডি, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে বিতর্ক ও বিভিন্ন সংগঠনের সভাও চলে ঝুঁপড়িতে। দল বেঁধে গান আর বন্ধু-প্রেমিক যুগলের খুনসুঁটিও চোখে পড়ে।
সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার : বেশকিছু দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থাগার। যার নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। শুরুতে মাত্র ৩০০টি বই নিয়ে গ্রন্থাগারটির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর সংগ্রহশালায় রয়েছে প্রায় দুই লাখেরও বেশি বই। রয়েছে দুসপ্রাপ্য সব প্রাচীন গ্রন্থ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সব জার্নালের প্রাচীন বিরল কপিসহ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ব্রেইল পদ্ধতির বইও রয়েছে এই গ্রন্থাগারে। সমপ্রতি এখানে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে বিশদভাবে জানার সুযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারে রূপ নিয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জাদুঘর : বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ঠিক পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি জাদুঘর। ১৯৭৩ সালের ১৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে রয়েছে প্রাচীন- প্রাগৈতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন ভাস্কর্য। এছাড়াও অষ্টম শতকের পাহাড়গুলো থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির চিত্রফলক, বুদ্ধমূর্তি, মধ্যযুগের বেশকিছু বিষ্ণুমূর্তি, বাদ্যযন্ত্রসহ সৈন্য-সামন্তদের ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্রও সংরক্ষিত রয়েছে এই জাদুঘরে। তবে অতি শীঘ্রই এই জাদুঘরে ঠাঁই পেতে যাচ্ছে সদ্য প্রয়াত দেশবরেণ্য শিল্পী আয়ুব বাচ্চুর ৬০ গিটার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রয়াত আয়ুব বাচ্চুর ৬০ গিটার যুক্ত হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে ভিন্ন আবহ যোগ করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জাদুঘর ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও রয়েছে একটি প্রাণিবিদ্যা ও সমুদ্রবিদ্যা জাদুঘর। প্রাণিবিদ্যা জাদুঘরে ৫৪০টি নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণীর সংখ্যা ৫৭টি এবং ফরমালিন ভেজা নমুনা ৪৮৫টি। এছাড়া সমুদ্রবিদ্যা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক মাছ, আজব বাণকেল, অক্টোপাস, শামুক, সাপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী।
আন্দোলন-সংগ্রাম : ঊনোসত্তরের গণ-অভ্যূত্থান, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় সব আন্দোলনেই সরব ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। যার ভূমিকায় ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ৮ জন বীর সেনানী শহীদ হয়েছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন ভূষিত হয়েছেন বীর প্রতীক খেতাবে।
অর্জন : অর্জনেও পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ ৫২ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি করেছে অনেক রথী-মহারথীর। বিশ্বখ্যাত ভৌত বিজ্ঞানী প্রফেসর ইমিরেটাস জামাল নজরুল ইসলাম এর মধ্যে অন্যতম। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ অনেকের সান্নিধ্যে ছিলেন। জামাল নজরুলের অনেক গ্রন্থ আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বিশ্বের খ্যাতনামা বেশকয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসেও তাঁর গ্রন্থগুলো পাঠ্যক্রম হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছে।
দেশের একমাত্র নোবেল জয়ী ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর হাতে গড়া গ্রামীণ ব্যাংক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রাম থেকেই যাত্রা শুরু করে। সাহিত্যিক আবুল ফজল ও ইউজিসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ঢাকা উত্তরের সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের মত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে সাহিত্যিক সৈয়দ আলী আহসান, আনিসুজ্জামান, আহমদ শরীফ, চিত্রশিল্পী মর্তুজা বশীর, চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরী, সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের মত ব্যক্তিত্বরাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত আলোকচিত্র শিল্পী ফয়সাল আজিমও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১১ সালে ব্যাঙের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার। তিনিও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
উপাচার্য : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রালগ্নে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান (এ আর) মল্লিক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

x