চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ

উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি

মিজানুর রহমান

শনিবার , ৯ জুন, ২০১৮ at ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
911

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিজ্ঞান কলেজের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার প্রথম শিক্ষা বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের মাধ্যমে সবার নজর কাড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক র‌্যাঙ্কিং এ ১৮তম স্থান এবং বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। এছাড়াও বিশেষায়িত কলেজ হিসেবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২য় স্থান দখল করে। জিপিএ ৫ ব্যতীত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি কলেজে ভর্তির কোন সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই বাধ্য হয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম খরচের বিষয়টি সামনে আসে যা অভিভাবকদের নিকট অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামর্থ্য অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য অভিভাবকদের বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য অভিভাবকগণ আরও বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই সকল বিষয়কে মাথায় রেখে ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানের জন্য বিশেষায়িত বিজ্ঞান কলেজের যাত্রা শুরু হয়। যার সাথে ভিন্ন মাত্রায় ছিল ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সংযোজন। চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ জাহেদ খান জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞানের জন্য বিশেষায়িত কলেজে স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। যা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট এখন একটি আস্থার নাম। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অল্প সময়ে সুপরিচিতি লাভ করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ ও সিটি বিজ্ঞান কলেজ।

অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মাদ জাহেদ খান বলেন অল্প সময়ে সাফল্য অর্জনের পেছনে রয়েছে সম্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রয়াস। তাই তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল উপহার দিতে পারবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি তার প্রতিশ্রুতি পুনব্যক্ত করে বলেন, এই বছর এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও ১০৫০ নম্বর প্রাপ্তদের চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিবেন।

অধ্যক্ষ আরো বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রতি বছর ঈর্ষণীয় ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে কলেজটি। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বগৌরবে এই বছর কলেজটির প্রায় ১০ বছর পূর্তি হলো। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয় বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছি। ক্লাসনির্ভর পাঠদান পদ্ধতি এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প ধারা সৃষ্টি করেছে। ফলে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ হতে অনেক শিক্ষার্থী এইচ এস সি তে এ+ পেয়েছে , যাদের অনেকেই এসএসসিতে এ+ প্রাপ্ত ছিল না। শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা সিবিসিকে মূল্যায়ন করার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন। এই কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে কোনো প্রাইভেট পড়তে হয় না। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ এসি ক্লাসরুম। সুবিশাল ক্যাম্পাস, ওয়াইফাই সুবিধা, আইটি ও বিষয়ভিত্তিক ব্যবহারিক ল্যাব। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবি শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি গঠন করেছেন জেএফ ট্রাস্ট। এর মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং সৃজনশীল শিক্ষার মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দির উপযুক্ত একটি আলোকিত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখা।

এছাড়াও ট্রাস্টের মাধ্যমে দরিদ্র কৃষক, রিকশা চালক, দিনমজুর, গার্মেন্টস কর্মী, ট্যাক্সি চালক, বাস চালকসহ যে কোন নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় সহায়তা দিয়ে গড়ে তোলা। কলেজটির ট্রাস্টি বোর্ডে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহম্মদ আবু জাফর চৌধুরী। তিনি বলেন, মান সম্পন্ন পাঠদান ও ভাল ফলাফলের কারণে বিজ্ঞান কলেজ সবার নজর কেড়েছে। ফলে এখন বিজ্ঞানের সেরা শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়তে আসছে।

x