চট্টগ্রাম থেকে হজ্ব ফ্লাইট বাড়ানো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

শনিবার , ৬ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
27

হজ্ব ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে একটি অন্যতম স্তম্ভ। বাংলাদেশের ২০১৯ সালে এক লক্ষ সাতাইশ হাজার একশত আটান্নব্বই জন নারী পুরুষ হজ্ব ও ওমরাহ পালন করে। কেননা হজ্ব ও ওমরাহ সহ প্রত্যেকটি ইবাদত মহান আল্লাহর নির্দেশ ও রসুলুল্লাহ (স:) এর সুন্নাহ এর আলোকে সহীহ নিয়মে আদায় করা একান্ত প্রয়োজন। তবে হজ্ব করার নিয়ত করার পরেও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজ্ব সম্পাদন করা যায়। হজ্বের প্রক্রিয়ার পর্যায় ক্রমিক আনুষ্ঠানিকতা এবং নিয়ম পালন সম্পর্কে হজ্বযাত্রীগণ জেনে থাকেন। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো এখনো আমরা যারা চট্টগ্রামের হজ্বযাত্রী আমাদের ইমিগ্রেশন হবে সৌদিআরবে অবশিষ্ট হজ্ব যাত্রীদের ইমিগ্রেশন হবে ঢাকায় আশকোনা হজ্ব অফিসে। ওমরাহ হজ্বে যাওয়ার সময় জেদ্দা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে কত ভোগান্তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে কত হাজীদের কত কষ্ট সময় নষ্ট, শারীরিক কষ্ট তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। চট্টগ্রামের হজ্ব যাত্রীগণ ঢাকায় আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে গিয়ে নানাবিধ বিড়ম্বনার শিকার হতেও পরিলক্ষিত হয়েছে। এ বারেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে যা জ্ঞাত হচ্ছে তা হলো চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক হজ্বযাত্রী থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা ও পবিত্র মদিনা হজ্ব ফ্লাইট যা দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বিধায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে হজ্বযাত্রীদের জন্য আরো বেশী করে পর্যাপ্ত ভাবে হজ্ব ফ্লাইট বৃদ্ধি করা বৃহত্তর জনস্বার্থে অপরিহার্য বিধায় এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সহৃদয়তার সহিত সুবিবেচনান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিমান মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ আশু ইতিবাচক হস্তক্ষেপ বিনীতভাবে কামনা করছি। অপরদিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত সহস্র ওমরা হজ্ব যাত্রীগণ সৌদি আরব গমনা-গমন করছে। কিন্তু বিমান বন্দর সংলগ্ন মসজিদের টয়লেট গুলো প্রায় সময় অপরিষ্কার থাকে এবং মহিলাদের জন্য আলাদা মান-সম্পন্ন টয়লেটও নেই। টয়লেটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ওমরা হজ্ব যাত্রীরা এহরাম পরিধান করার পূর্বেও ওজু করাসহ এহরাম পরার প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার তীব্র অভাব বোধ করে আসছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জ্ঞাত মতে বিগত ১৬/০৬/২০১৬ইং তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতি ইস্যুকৃত নির্দেশনা মতে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী হাজী ক্যাম্প চালুর পদক্ষেপ নিতে এবং এতদসংক্রান্তে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নির্দেশ ছিল। এতদসত্ত্বেও দীর্ঘ আড়াই বৎসরাধিককাল সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ইতিবাচক তৎপরতা পরিলক্ষিত না হওয়া খুবই দুঃখজনক। চট্টগ্রামবাসীর দাবী ও বক্তব্য হলো চট্টগ্রাম থেকে কোটা অনুপাতে বিভাগীয়ভাবে সরাসরি পর্যাপ্ত সংখ্যক হজ্ব ফ্লাইটের সুব্যবস্থা করা হলে রাজধানীর উপর চাপ কমবে এবং সহজে এ বিভাগের হজ্বযাত্রীরা অনায়াসে সৌদিআরব যেতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে হজ্ব সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম চট্টগ্রাম বিভাগের কম-বেশি একশত হজ্ব এজেন্সী যেন ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি না করে চট্টগ্রামস্থ পাহাড়তলীর ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন ও সারাদেশ বিদেশে সুপরিচিত আন্তর্জাতিক মানের সুপরিসর হাজী ক্যাম্প থেকে হজ্বের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সমাধান করতে পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অধঃস্তনদেরকে সরাসরি নির্দেশনা প্রদান জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় বৃহত্তর জনস্বার্থে উপরোক্ত আলোচনার আলোকে চট্টগ্রামের হজ্ব যাত্রীদের প্রাণের দাবী ও বক্তব্য সমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের সংসদ, বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তড়িৎ আশু ইতিবাচক জোরালো হস্তক্ষেপ বিনীতভাবে কামনা করছি।

– এস. এম. ফরিদুল আলম, এমএম আলী রোড, চট্টগ্রাম।

x