চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে স্পিড ট্রেন চালুর কাজ অচিরেই শুরু

সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে

হাসান আকবর

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
864

চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে স্পিড ট্রেন (বুলেট ট্রেন) চালু এবং ঢাকা শহরে সার্কুলার ট্রেন চালুর প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অচিরেই শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা চট্টগ্রাম রেল লাইনের সংস্কার এবং পথ পরিবর্তন করে দূরত্ব কমিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। স্পিড ট্রেন চালু হলে সকালে যাত্রা করে ঢাকায় অফিস করে আবার বিকেলে চট্টগ্রামে ফিরে আসা যাবে। এক্ষেত্রে ঢাকা শহরের আশি কিলোমিটার পথে সার্কুলার ট্রেনও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে বলেন, ‘দেশের ট্রেন সার্ভিসকে বিশ্বমানের করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসা যাওয়ার জন্য স্পিড ট্রেন বা বুলেট ট্রেন সার্ভিস চালু করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বহুল প্রত্যাশার এই প্রকল্পটিকে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার
প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির নকশা তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’ আগামী মাস কয়েকের মধ্যেই নকশা তৈরিসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু হবে বলেও রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর চট্টগ্রাম-ঢাকা বুলেট ট্রেন সার্ভিস চালুর ব্যাপারে চীনের চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেডের সাথে রেলওয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীন সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত চুক্তির আলোকে জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পদস্থ একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে জানান, বিদ্যমান ঢাকা চট্টগ্রাম রেল লাইনের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ আশি কিলোমিটারের বেশি গতির ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়। তাও পুরো রাস্তায় সম্ভব হয় না। বুলেট ট্রেন চালাতে হবে ২০০ কিলোমিটার স্পিডে। আর এই গতির ট্রেন চালানোর জন্য নতুন রেল লাইন নির্মাণ বা বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করতে হবে। অপরদিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেলপথের দূরত্ব ৩২০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী- কুমিল্লা- বি-বাড়িয়া, ভৈরব বাজার এবং টঙ্গি হয়ে অনেকটা বৃত্তাকারে ট্রেন ঢাকায় পৌঁছে। এতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ এই পথটিকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হয়ে কুমিল্লার লাকসামের উপর দিয়ে নিয়ে আসা হলে দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ৯০ কিলোমিটার। দূরত্ব কমে গেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব নেমে আসবে ২৩০ কিলোমিটারে। আর এই পথ বুলেট ট্রেন মাত্র দুই ঘণ্টায় পাড়ি দেবে। পথিমধ্যে কয়েকটি স্টেশনে যাত্রী উঠা-নামানোতে কিছুটা সময়ক্ষেপন হবে বিধায় দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। অন্যথায় দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ সম্ভব বলেও জানিয়েছেন রেলওয়ের ওই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৫৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে চীন সরকার প্রকল্প সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে ২৪ হাজার ৭৬৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। বাকি টাকার যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু হতে হতে ব্যয় আরো কিছুটা বাড়তে পারে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, শুধু স্পিড ট্রেন বা বুলেট ট্রেনই নয়, ঢাকা শহরে ৮০ কিলোমিটারের একটি সার্কুলার ট্রেনও চালু করা হচ্ছে। যেখানে সারাক্ষণই ট্রেন ঘুরতে থাকবে। এতে করে মাত্র দুই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে সার্কুলার ট্রেনে চড়ে খুব অল্প সময়ে অফিসে পৌঁছে কাজে যোগ দেয়া সম্ভব হবে। অফিস শেষ করে বিকেলের ট্রেনে চট্টগ্রামে ফিরে আসাও অসম্ভব হবে না। বিশ্বের বহু দেশে দুই চারশ’ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বহু মানুষই অফিস করেন। ব্যবসা বাণিজ্য বা অফিস আদালত পরিচালনা করেন। আগামী দু’চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশেও উন্নত বিশ্বের সেই প্রত্যাশিত অবস্থা তৈরি হবে বলেও এবিএম ফজলে করিম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

x