চট্টগ্রাম.কম

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
314

ইমপেরিয়াল হাসপাতাল : চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। প্রাইভেট সেক্টরে ট্রাস্ট পরিচালিত ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল খুব শীঘ্রই উদ্বোধন হবার পথে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন : ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ইউরোপ সিঙ্গাপুরের সমমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। তারা আরো দাবী করেছেন: ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে বাংলাদেশে শীর্ষ হাসপাতালগুলোর চাইতে ১৫ শতাংশ কমে রোগীরা সেবা পাবেন। আরো যেসব সুযোগ সুবিধা এই হাসপাতালে রয়েছে তা যে কোনো আধুনিক হাসপাতালের সমতুল্য। এই হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্যে ৪০টি রুম, ও ১৭৪ জন এটেনডেন্টের জন্য ডরমেটরীও রয়েছে। এছাড়া, আধুনিক লাইফ সাপোর্ট চিকিৎসা সংবলিত বিশেষ এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি ভিত্তিতে মরণাপন্ন রোগী আনার জন্যে হেলিপ্যাডও রয়েছে।
আজাদীর পাঠকরা পত্রিকায় এর বিস্তারিত বিবরণ পড়েছেন। তাই আমি বিস্তারিত বিবরণ পুনরাবৃত্তি করতে চাইনা। চট্টগ্রামে প্রাইভেট সেক্টরে নি:সন্দেহে এটি একটি মেগা প্রকল্প। যে কয়েকজন ধনী ব্যক্তি এই প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করেছেন তাঁদের প্রতি চট্টগ্রামবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। কারণ চট্টগ্রামে অনেক ধন্য ব্যক্তি রয়েছেন, কিন্তু এরকম একটি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা খুব অল্প ক’জনই করেছেন। আমি আশা করি এই প্রকল্প যদি ব্যবসা সফল হয় তাহলে এধরণের নানা প্রকল্পে চট্টগ্রামের বড় ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।
তবে এধরনের একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে (বিদেশের বহু সহায়তা নেয়া হয়েছে) নেতৃত্ব দেবার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল হোসেনের কোনো বিকল্প নেই। ডা. রবিউল হোসেন চক্ষু চিকিৎসা নিয়ে দেশে অনেক কাজ করেছেন। চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে কিংবদন্তী বলা যায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের মতো একটি অত্যাধুনিক জেনারেল হাসপাতাল তৈরিতে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন সেজন্যে চট্টগ্রামবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
এধরনের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব, তাঁর ব্যবস্থাপনা টীম, ট্রাস্ট সদস্যবৃন্দ অথবা ডিরেক্টরবৃন্দ, এঁদের দূরদৃষ্টি, হাসপাতাল তৈরিতে অনেক সহায়ক হবে।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, আজাদী সম্পাদক জনাব এম এ মালেকের একটি মন্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’
এখন অপেক্ষার পালা। আর কয়েক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি চালু হবে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে দুএকটি বিভাগ নিয়ে সফ্‌ট ওপেনিংও হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
হাসপাতালটি নিয়ে কর্তৃপক্ষ যতই দাবী করুক আমরা শুনবো রোগীদের কথা। রোগীরাই বলবেন, সেবার মান কেমন, চার্জ কী রকম, ডাক্তার সাহেব রোগীদের সঙ্গে কতোক্ষণ কথা বলেন, কতোক্ষণ হাসপাতালে থাকেন, রাতবিরেতেও কলিং বেল টিপলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স আসেন কিনা, রাতের বেলা ডিউটি ডাক্তারকে পাওয়া যায় কিনা, হাসপাতালে রোগীদের খাবার মান কেমন, রোগীদের এটেনডেন্টরা কী ধরণের সুবিধা পাচ্ছে, অন্তত রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাফেটেরিয়া খোলা থাকছে কিনা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার কথা বলবেন রোগীরা। রোগীদের অভিজ্ঞতাই হাসপাতালের প্রচার। আমি ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ, সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকার আলি আসগর হাসপাতালে (গেন্ডারিয়া) অনেকদিন চিকিৎসা নিয়েছি। আধুনিক হাসপাতাল কাকে বলে তা দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। আমি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যে বক্তব্য পড়েছি তাতে আমি আশাবাদী, এই হাসপাতাল এশিয়ার ভালো হাসপাতাল গুলোর সমকক্ষই হবে।
আমাদের অনেক রোগীর মানসিকতাই এমন যে, তারা স্বদেশের চিকিৎসার উপর ভরসা পাননা। তারা ঢাকায় কোনো বড় হাসপাতালে না দেখিয়েই কলকাতা, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, মুম্বাই, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করেন। তারা দাবী করেন, তারা ইতিবাচক ফল পেয়েছেন। বিদেশে যাবার আগে দেশের সম্ভাব্য সব ভালো চিকিৎসা করিয়ে নেয়া কি উচিত নয়? দেশেও ভালো ফল তাঁরা পেতে পারতেন। কিন্তু সেই চেষ্টা তারা করেননা। বিদেশের উপরই তাদের আস্থা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর রোগীরা কলকাতা বা চেন্নাই তো যাবেনই। কলকাতা ও চেন্নাই এর উপর বাংলাদেশী রোগীদের অনেক আস্থা।
চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এই চিত্র পাল্টাতে পারে কিনা দেখা যাক। ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরও অনেক রোগী কলকাতা বা চেন্নাই এপেলোতে চিকিৎসা নিতে যান। শোনা যাচ্ছে, চট্টগ্রামেও একটি এ্যাপেলো হাসপাতাল হতে যাচ্ছে। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন: মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষজন যাতে উন্নত চিকিৎসা পায় সেজন্য তারা এই হাসপাতাল তৈরি করেছে। একটি হাসপাতালের ফী’র উপর নির্ভর করবে কোন ধরণের আয়ের রোগীরা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে আসবেন। মনে রাখা দরকার, এটা কোনো সরকারী হাসপাতাল নয়।

ছাত্রলীগের মারামারি

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ মারামারি নতুন কিছু নয়। তাছাড়া এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। তাই ছাত্র লীগের অসম্ভব শক্তি। সরকারি ঠিকাদারী কাজকর্মের ভাগীদার সবাই। কারো ভাগে কম পড়লে সে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে দল পাকায়। নিজেদের মধ্যে দলাদলি। ভোটে মনোনয়ন পাবার জন্যে দলাদলি। ঠিকাদারীর বড় ভাগটি পাবার জন্যে দলাদলি। ছাত্রলীগের রাজনীতি এরকমই চলছে গত দশ বছর।
বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ছাত্র দলেও এরকম মারামারি ছিল। ঠিকাদারীর লাঠিয়াল থাকে ছাত্র সংগঠনে। তাদেরই ইশারায় এসব মারামারি হয়ে থাকে। এখন ছাত্র দল দৃশ্যপটে নেই। তাই মারামারি নাটকটা ছাত্রলীগ একাই করছে।
এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ রণক্ষেত্র করে তুলেছিল। আমাদের ছাত্র রাজনীতি যেরকম দুষিত তাতে এরকমই তো হবার কথা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছাত্রলীগের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্যে ধর্মঘট ডেকেছে। মোটকথা ছাত্র লীগের কল্যাণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখন অচল।
ছাত্র রাজনীতিতে মারামরি, খুন, ধর্মঘট ডাকা, পুলিশের প্রতি আক্রমণ নতুন কোনো বিষয় নয়। এখনকার ছাত্রদের প্রধান অংশ কোনো আদর্শের জন্যে দল করেনা। তাদের রাজনীতি বলে কিছু নেই। তারা টাকা পয়সা আয়ের নিক্তিতে ছাত্র রাজনীতিকে মাপে। বড় বড় নেতারা ছাত্রদের পোষে। ক্ষমতায় থাকা কালে তারা ছাত্রদের একটি অংশকে নানা সরকারী ঠিকাদারী এনে দেয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে নানারকেম চাঁদাবাজি তো আছেই। ছাত্রলীগ নেতারা টাকা পয়সায় বেশ ভালোভাবেই আছে। ঢাকায় ছাত্র লীগ নেতাদের অবস্থা আরো ভালো। কেউ ফ্ল্যাট কিনেছে। কেউ দামী গাড়ী। তারা যখন মুভ করে তখন পাঁচ ছয়টা গাড়ি, ২০-২৫ জন স্তাবক তাদের সঙ্গে যান। তারা এমন একটা ভাব করে যে, তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অথচ বাস্তব সত্য তা নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যদি তারা ছাত্র লীগের নেতা হতো তাহলে তাদের কিছুটা মেনে নেয়া যেতো। কিন্তু তারা নেতা হয় সিলেকশন পদ্ধতিতে। বড় নেতাদের যারা আশীর্বাদ পায় তারাই ছাত্র লীগের নেতা হতে পারে। নিজের কোনো গুণ দিয়ে নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ছাত্রলীগের একজন হিতৈষী বলে জানতাম। তিনি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। তাঁর কথা ছাত্রলীগ নেতারা শুনলেননা। কেন শুনবেন? ছাত্রলীগ নেতাদের মারামারি নিশ্চয় টাকার (ঠিকাদারীর ) বখরা নিয়ে। এধরণের ছাত্র নেতারা টাকা ছাড়া আর কিছু চেনেনা।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পৃথক ভাবে এমন দুষিত ছাত্র রাজনীতির মডেল তৈরি করে দিয়েছে, তা থেকে বেরুনোর কোনো পথ নেই। টাকা ও ঠিকাদারী দিয়ে তাদের পুষতে হবে। প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্যে এধরণের লাঠিয়াল বাহিনীর খুব প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন যে তারা নিজেরা নিজেদের উপর চড়াও হচ্ছে সেকথা তারা আদিতে ভাবেননি। দুই বড় দল আশা করেছিল শুধু ইশারা পেলে তারা প্রতিপক্ষ দলকে আক্রমণ করবে। এখন হিসেব পাল্টে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র লীগের দুই গ্রুপের মারামারির খবরের রেশ শেষ না হতেই বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার সমর্থকরা একদিকে আর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও তার সমর্থকরা অন্যদিকে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলে তারা দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দুই পক্ষের মারামারিতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। ছাত্রলীগের এক পক্ষ মিউজিক করার যত সরঞ্জাম মঞ্চে রেখেছিল তা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। একটি সংবাদপত্র লিখেছে যার মূল্য ৪০ লক্ষ টাকা হতে পারে। এখন প্রশ্ন হল : ব্যান্ড গ্রুপকে এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? এই অনুষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহে ছাত্রলীগ বিভিন্ন কোম্পানী থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। দুএকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান টাইটেল স্পন্সরও হয়েছিল। একটি পত্রিকা লিখেছে: স্পন্সরদের টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই এত মারামারি। অবশেষে নববর্ষের অনুষ্ঠান পন্ড।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের চিত্র যদি এরকম হয় তাহলে অন্যান্য জেলা শহরের চিত্র কী হতে পারে তা অনুমান করা যায়।
৯০ পরবর্তী বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি যেভাবে হিংসাত্মক ও দুষিত হয়ে উঠেছে, যেভাবে ছাত্র নেতারা সরকারী নানা ঠিকাদারী কাজ পাবার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে, টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে অন্ত:কলহে লিপ্ত থাকে তা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন। কিন্তু শুধু সমালোচনা করলে তো কাজ হবেনা। সরকারের উদ্যোগে ‘ছাত্র রাজনীতি’ ইস্যুতে একটি দুদিন ব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করা উচিত। যেখানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আমলা, প্রাক্তন ছাত্র নেতা, এমপি, সাংবাদিক তাদের মতামত দিতে পারবেন। তাদের গঠনমূলক পরামর্শ সরকার যেন বিবেচনা করে। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই কাজটি করতে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তথাকথিত ছাত্র রাজনীতির কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। ছাত্র ও তরুণদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া এসব নেতারা অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলবেন না। জাতীয় ইস্যুতে কথা বলার জন্যে রাজনৈতিক দল রয়েছে। তারাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলবে।

ঢাকার নোটবুক

মহা ধূমধামের মধ্যে দিয়ে ঢাকায় বাংলা নববর্ষ পালিত হল গত ১৪ এপ্রিল। প্রতি বছর যেন মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আর বাড়ছে নানা অনুষ্ঠান। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে নতুন পোশাক আর খাওয়া দাওয়া। ১লা বৈশাখ শহরের সব খাবার দোকান গভীর রাত পর্যন্ত খোলা ছিল। ১লা বৈশাখ নতুন কাপড় পরাও একটা নতুন প্রবণতা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে। ঐদিন ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কোথাও যাওয়ার জো নেই। এত বেশি মানুষ ও নানা রকম যানবাহন রাস্তায় ব্যস্ত থাকে যে, নিজের গাড়ি নিয়ে চলা খুব মুশকিল। তাছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে ডিএমপি ঢাকার কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবু মানুষের ঢল থামানো যায়নি।
০ ০ ০ ০
১লা বৈশাখ চারুকলা ইনস্টিটিউট এর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সকাল বেলা যে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয় তা নববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও বিদেশি দর্শকদের কাছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পর্কে আমার একটা ভিন্ন মত আছে। প্রায় এক মাসের পরিশ্রম আর্ট ইনস্টিটিউটের ছাত্ররা মঙ্গল শোভাযাত্রার যে মোটিফ গুলো তৈরি করেন তার আয়ু কেন মাত্র এক ঘন্টা হবে, এত কষ্ট করে যে মুখোশগুলো তৈরি করা হয় তা পুলিশি নির্দেশে মুখে পরা যাবেনা, হাতে রাখতে হবে। তাহলে মুখোশ বানিয়ে লাভ কী? আমার প্রস্তাব: মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তত ২ কিলোমিটার রাস্তা প্রদক্ষিণ করবে। তাহলে বহু লোক এর বার্তাটি পাবে। আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এখন এই মিছিল আসে। এর ফলে শোভাযাত্রার প্রতি সুবিচার হয়না। এখন মনে হয় টিভি ক্যামেরা ও সংবাদপত্রের ফটোগ্রাফারদের জন্যে ফটো সেশন করা হয় মাত্র। আজকাল অনেকেই মূল কাজের চাইতে প্রচারের উপর জোর দেয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবার নানা কর্মসূচির মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রাও রেখেছে। তারা এর প্রতীক করেছে ‘মাছ’। বুড়িগঙ্গার পানি ও মাছ বাঁচাবার শ্লোগান তাদের শোভাযাত্রায়। তারা আদি ঢাকার বিভিন্ন অলিতে গলিতে এই শোভাযাত্রা নিয়ে গেছে। তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
০ ০ ০ ০
ইলিশ মাছের ব্যাপারে সরকারী নীতিটা আমার কাছে স্পষ্ট হলোনা। একবার বলা হয়েছিল বৈশাখ মাসে ইলিশ মাছ ধরা যাবেনা। আগ্রহী ব্যক্তিরা এক দেড় মাস আগে থেকে ইলিশ ফ্রীজআপ করেছেন। এবার ইলিশের ব্যাপারে সরকারের কোনো নির্দেশনা ছিলোনা। বাজারেও দেদার বিক্রি হয়েছে ইলিশ।
০ ০ ০ ০
বিএনপি এখনো তাদের বহুল প্রচারিত ‘আন্দোলন’ গড়ে তুলতে পারেনি। আমার প্রশ্ন: তারা আদৌ পারবে কি? আন্দোলন করার মতো শক্তি এখন বিএনপির আর নেই। এই সত্যটা তাদের বুঝতে হবে। তাই অন্য কোনোভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায়ের পথ খুঁজতে হবে। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা বিএনপিকে গ্যারাকলে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশে একবার ভুঁয়া নির্বাচন হলেও, তা বাতিল করার সুযোগ কম। দেখুন,ডাকসু নির্বাচনও বাতিল হচ্ছেনা। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন। আর অপরটি সমগ্র দেশ। শেখ হাসিনা ভুঁয়া নির্বাচনের কলংক মাথায় নিয়েও সরকার পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এটা তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। ‘ভুঁয়া ভোটের হাজার সমালোচনা হলেও সরকারের দায়িত্ব আমাকেই পেতে হবে।’ তিনি তাই পেয়েছেন। বিএনপি যদি শাক্তশালী দল হতো তাহলে হয়তো বড় মাপের আন্দোলন করে শেখ হাসিনাকে নামাতে পারতো। কিন্তু বর্তমান বিএনপি তো দুর্বল দল।
০ ০ ০ ০
সরকারী উদ্যোগে ঢাকায় সার্কুলার বাস (এসি) চালু হয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রায় দশটি নতুন বিআরটিসি বাস আজিমপুর থেকে বিভিন্ন স্টপেজ হয়ে ধানমন্ডি ২৭-এ শেষ হয়। ভাড়া দূরত্ব বিশেষে ৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। সব যাত্রী সিটে বসতে পারেন। রাস্তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে টিকিট কিনতে হয়। কিছুদিনের মধ্যেই উত্তরা-মতিঝিল রুটেও এই সার্কুলার বাস চালু হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার সব রুটে সার্কুলার বাস চলবে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটা বড় পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। চট্টগ্রামেও এরকম সার্কুলার বাস রুট শীঘ্রই চালু হওয়া উচিত। আগ্রাবাদ থেকে জিইসি একটি রুট হলে ভালই হবে। শুধু আশংকা হয় বিআরটিসি এই সুন্দর ব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা। তাদের অতীত মোটেও প্রশংসাসূচক নয়।
লেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
jahangir.cdc@gmail.com

x