চট্টগ্রামে ৫০০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রির লক্ষযমাত্রা

গ্যাস সংযোগ নয়, থাকছে এলএনজি সুবিধা

হাসান আকবর

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
131

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া চট্টগ্রামের আবাসন মেলায় পাঁচ হাজার ফ্ল্যাট এবং দুই হাজার পস্নটের বিশাল এক পসরা সাজানো হয়েছে। চলিস্নশ লাখ টাকা থেকে শুরু করে চার কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাট উপস্থাপন করা হচ্ছে মেলায়। বিভিন্ন দামের প্লটও প্রদর্শিত হচ্ছে। নগরীর একমাত্র পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন বস্নু চিটাগাং বে ভিউতে শুরু হওয়া এ আবাসন মেলায় পাঁচশ কোটি টাকার ফ্ল্যাট এবং প্লট বিক্রির লক্ষযমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেড়্গিতে লক্ষযমাত্রা অর্জিত হওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তির আশা বাদ দিয়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে এলএনজি নির্ভর নতুন ডিজাইন করা হচ্ছে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর উদ্যোগে নগরীতে শুরু হয়েছে চারদিনের এ আবাসন মেলা। মেলায় সর্বমোট ৭৬টি স্টল সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের খ্যাতনামা ৫৪ টি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এবং বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। কো-স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে ১৭ টি প্রতিষ্ঠান। মেলায় অংশগ্রহণকারী ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৪০টি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনত্মত পাঁচ হাজার ফ্ল্যাট ও দুই হাজার প্লট উপস্থাপন করছে। এরমধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সুলভে ফ্ল্যাট বিক্রির অফার এনেছে। আবার উচ্চবিত্ত শ্রেণীর জন্যও রয়েছে ফ্ল্যাট ও প্লট। স্যানমার প্রপার্টিজ ২১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকায় এক বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট উপস্থাপন করেছে। ৫০০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট নিয়ে বহু মানুষই খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্যানমারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইউব। সীতাকু-ের ফৌজদারহাট এলাকায় স্যানমারের নিজস্ব আবাসন প্রকল্পে এই এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্যানমার প্রপার্টিজের এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রতি বর্গফুট সাড়ে ছয় হাজার টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যনত্ম দরে ফ্ল্যাট বিক্রি করছে স্যানমার।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবেল নগরীর কর্ণেল হাট এলাকায় ৪০ লাখ টাকায় ১২শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাট প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। ডেভলপার প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছয় হাজার থেকে নয় হাজার টাকা পর্যনত্ম দরের ফ্ল্যাট উপস্থাপন করছে। একইভাবে ডেভলপার প্রতিষ্ঠান র‌্যাংকস এফসি, এপিক, ফিনলে, এএনজেড প্রপার্টিজ, শেঠ প্রপার্টিজ, কনকর্ড, বিটিআইসহ চলিস্নশটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট এবং প্লট বিক্রি করছে।
এবারের মেলায় কমপড়্গে ৫০০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট এবং প্লট বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ক্রেতাদের রুচি এবং সামর্থের কথা মাথায় রেখে আবাসন মেলায় বিভিন্ন ডেভলপার প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট এবং প্লট নিয়ে হাজির হয়েছে। মেলায় এসে সকল শ্রেণীর ক্রেতা যাতে অনায়াসে নিজেদের পছন্দের ফ্ল্যাট কিনতে পারেন সেজন্য সবধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ব্যাংক লোন থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক আর্থিক ব্যাপারগুলো সম্পর্কেও মেলার দর্শনার্থীরা অনায়াসে জানতে পারছেন। শুধু এ্যাপার্টমেন্টই নয়, একই সাথে নির্মাণ কাজে জড়িত অন্য বিষয়গুলো নিয়েও মেলায় প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত মিলছে। একই ছাদের নিচে আবাসনের সব সংকট সুরাহার ব্যবস্থা রিহ্যাব ফেয়ারে করা হয়েছে বলেও আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী জানান। চট্টগ্রামের ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনার দিকে ব্যাপক হারে ঝুঁকেছেন বলে উলেস্নখ করে রিহ্যাবের এই নেতা বলেন, মাঝের কয়েকটি বছর বড় দুঃসময় পার করতে হয়েছে। এখন অবস্থা অনেক ভালো। আগামী ১৭ মার্চ পর্যনত্ম অনুষ্ঠাতব্য এবারের মেলায় সেই ‘ভালো’র প্রভাব পড়বে বলেও তিনি মনে করেন।
আবাসনে গ্যাস সংকট প্রকট বলে উলেস্নখ করে রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের নির্মাণ শিল্পে বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্যাস নিয়ে আমরা অনেক ভুগেছি। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত ফ্ল্যাট পুরোপুরি তৈরি হলেও শুধুমাত্র গ্যাসের কারণে ক্রেতারা বুঝে নেননি। অনেক ক্রেতাকে ম্যানেজ করতে আমাদের মাথার ঘাম পায়ে পড়েছে। সরকারি সিদ্ধানেত্মর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ আমাদের নেই। আবাসনে আর গ্যাস সংযোগ বা চুলা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে না। এতে করে আমাদেরকে নতুন করে চিনত্মাভাবনা করতে হয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে আমরা ডিজাইনে পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। গ্যাস না পেলেও আমাদের এ্যাপার্টমেন্টের কিচেনে এলএনজি ব্যাবহারের ডিজাইন করা হচ্ছে। এতে প্রতিটি এ্যাপার্টমেন্টের নিচে আমরা কয়েকটি এলএনজি সিলিন্ডার রাখার মতো ডিজাইন করছি। যেখান থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস যাবে কিচেনে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের নামে আলাদা আলাদা মিটার থাকবে। যে ফ্ল্যাট যে পরিমাণ এলএনজি ব্যবহার করবে সেই ফ্ল্যাটের মালিক সেভাবে বিল পরিশোধ করবেন। এলএনজি সিলিন্ডার ফাঁকা হয়ে গেলে আবার নতুন করে রিফিল করা হবে। এতে গ্যাস খাতে ব্যয় প্রাকৃতিক গ্যাসের মতোই যাবে বলে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের প্রায় সব নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখন এলএনজি সিলিন্ডার ব্যবহার করার মতো করে ডিজাইন করছে। এতে করে আবাসিক খাতে গ্যাস নিয়ে যেই হাহাকার তৈরি হয়েছিল তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সড়্গম হচ্ছি বলেও তিনি জানান।

x