চট্টগ্রামে হবে ৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ

মোরশেদ তালুকদার

সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
655

বৈধ শ্রমিক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভাষা সহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও অদক্ষতার কারণে কর্মক্ষেত্রে বেকায়দায় পড়তে হয় তাদের। অনেক সময় দেশে ফেরতও পাঠানো হয়। যারা থেকে যান তারা মজুরি কম পান দক্ষ শ্রমিকদের তুলনায়।
তবে দীর্ঘদিনের এ সমস্য উত্তোরণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সহ সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণ করার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা হবে ৯০টি টিটিসি। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ছয় উপজেলায়ও ৬টি টিটিসি নির্মাণ করা হবে। দেড় একর জায়গায় প্রতিটি টিটিসি নির্মাণে ব্যয় হবে ৩০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের ছয় উপজেলা হচ্ছে- রাউজান, সন্দ্বীপ, মীরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী এবং পটিয়া। বর্তমানে সন্দ্বীপ ও রাউজান উপজেলায় টিটিসি নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি টিটিসিগুলোর জমি অধিগ্রহণ এবং ডিজিটাল সার্ভের কাজ চলছে। টিটিসিগুলোতে থাকবে- একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি ভবন, অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যক্ষের কোয়ার্টার, সাব-স্টেশন, পাম্পহাউস, গ্যারেজ ও সাইকেল শেড, আন্ডারগ্রাউন্ড, অ্যাপ্রোচ রোড, বাউন্ডারি ওয়াল, গার্ড শেড, সুইমিংপুল, ফায়ার স্টেশন, সোলার সিস্টেম।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিদেশে চাহিদা আছে এমন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- টাইলস ফিক্সিং, রড বাইন্ডিং, শাটারিং, পাইপ ফিল্টারিং, ওয়েল্ডিং ও ফেব্রিকেশন, অটো মেকানিকস, প্যাটার্ন মেকিং, হাউস কিপিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কারপেন্ট্রি, মিড লেভেল গার্মেন্ট সুপারভাইজিং, সুইং মেশিন অপারেটিং, ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স, রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং, সুইং মেশিনারি মেইনটেন্যান্স, ইকুইপমেন্ট অপারেটিং এবং মেকানিকস। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থী যে দেশে যাবে সে দেশের ভাষার ন্যূনতম ৩০০ শব্দ শেখানো হবে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার পর দরকারি কথাবার্তা চালিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৭১টি টিটিসি রয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে আছে দুইটি। নগরীর নাসিরাবাদে আছে ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ (বিকেটিসিসি) এবং ‘মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’।
এদিকে রাউজানে নির্মাণাধীন টিটিসি সম্পর্কে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের কুণ্ডেশ্বরী বড়পোল এলাকায় ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর
টিটিসি নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী। এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবনটি প্রথমে চারতলা এবং পরে ছয়তলায় উন্নীত করার কথা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার দৈনিক আজাদীকে বলেন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির উদ্দেশ্যে দেশের ৪৩৭ উপজেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা টিটিসি নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে যে ৯০ টিটিসি নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলাও রয়েছে। এরমধ্যে সন্দ্বীপ ও রাউজানে টিটিসি নির্মাণ কাজ চলছে। আগামী বছর উপজেলা দুটিতে নির্মাণাধীন টিটিসির কাজ শেষ হবে। এসব টিটিসিতে বিদেশের চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গেলে সেখানে আর কাউকে অসুবিধায় পড়তে হবে না।
এ কর্মকর্তা বলেন, সবাই বিদেশ যেতে চায় বা স্বজনদের পাঠাতে চায়। কিন্তু একবারও ভাবেন না, যিনি যাবেন বা যাকে পাঠানো হচ্ছে তিনি সেখানে গিয়ে কি করবেন। তার যদি কোন কাজ জানা না থাকে তাহলে সেখানে গিয়ে কি করবেন? তাই বিদেশ যাওয়ার আগে উচিত প্রশিক্ষণ নেয়া। এইক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি উপলব্দি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কারিগরি বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান বিদেশের মাটিতে কাজে লাগাতে পারবেন প্রবাসীরা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে ২২ হাজার ৬০৮ জন বৈধ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে গেছেন। এরমধ্যে ওমানে গেছেন ১০ হাজার ১৮৮ জন, সৌদি আরবে গেছেন ছয় হাজার ৮০৭ জন এবং কাতারে গেছেন পাঁচ হাজার ১৫ জন।

x