চট্টগ্রামে মাঠে আ. লীগ, বিএনপি বিবৃতিতে

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
46

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে নেতাকর্মীদের। এর মধ্যে রায়ের আগের দিন রাতে অর্থ্যাৎ গত মঙ্গলবার রাতেই নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ চার নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়। কাজীর দেউড়ির নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশও। ফলে গতকাল মাঠে দেখা যায় নি বিএনপি নেতাদের। তবে রায় ঘোষণার পর তারা গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছেন। সেখানে রায় প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি কেন্দ্র ঘোষিত আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। রায়কে কেন্দ্র করে কেউ যাতে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য মাঠ দখলে রেখেছিলেন তারা। রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো উক্ত যুক্ত বিবৃতিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘তারেক রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ছিল ফরমায়েশি রায়। এখানে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এই রায় ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই সরকারের নির্দেশনায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।’ নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় এ মামলার চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম ছিল না। ২০০৮ সালে চার্জশিট দাখিল করার আগে মুফতি হান্নান যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল সেখানে তারেকের নাম বলেননি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে অবসর থেকে এনে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল। তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেকসহ বিএনপি নেতাদের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুফতি হান্নানকে ২য় দফায় দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করে নেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬৪ ধারায় ২য় বার জবানবন্দি নেওয়ার এটা বিরল ঘটনা। বিএনপি এই ফরমায়েশি রায় মেনে নিবে না এবং আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করবে।’ বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেগম রোজী কবির, গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক ফজু, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান।
পৃথক এক বিবৃতিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘তারেক রহমানকে ‘মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে সাজা’ দেয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আইন ও বিচার বিভাগ স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারলে উচ্চ আদালতে এই রায় বাতিল হবে এবং তিনি বেকসুর খালাস পাবেন।’
অপরদিকে সকাল থেকেই নগরের ১৭ টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মাঠ দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। সকালে বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গীবাজার, পাথরঘাটা, দেওয়ানহাট মোড়, পাহাড়তলী, লালখান বাজার, সিটি গেট ও অঙিজেন মোড়ে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রতিটি স্পটেই সড়কের পাশে অথবা আইল্যান্ডে অবস্থান নিয়ে তারা সমাবেশ করছে। সমাবেশগুলোতে অংশ নেন শতশত নেতাকর্মী। রায়কে স্বাগত জানিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে ছাত্রলীগ। আনন্দ মিছিল হয়েছে আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেট এলাকায়। এছাড়া দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে গণ সমাবেশের আয়োজন করে নগর আওয়ামী লীগ।

x