চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণে বাড়বে সক্ষমতা

আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন আগামী মাস থেকে কাজ শুরু, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমার আশা

শুকলাল দাশ

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
172

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং দূর করার লক্ষ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকায় ‘চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প-২’ একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী মাসে শুরু হবে প্রকল্পের (প্রকল্প পরিচালনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অন্যান্য কাজ) কাজ। গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রামের জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৮৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন স্থাপন করা হবে। এছাড়াও বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২৬টি নতুন সাব স্টেশন নির্মাণ, ৭টি সাব স্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ৮০০ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং সাড়ে ৫ হাজার উন্নতমানের ট্রান্সফরমার বসানো হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোন ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং থাকবে না। ২০২২ সালের জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন আজাদীকে জানান, ২ হাজার ৫শ’ ৫২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি পরবর্তীতে ৪ হাজার কোটি টাকা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট লোড কাভার হবে। এখন চট্টগ্রামের চাহিদা ১৩শ’ মেগাওয়াট হলেও ২০৩৫ সালে চট্টগ্রামে চাহিদা দাঁড়াবে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময়ের লোড ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগীভাবে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। আগামী মাসে প্রকল্পের পিডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করবো প্রকল্প পরিচালকের মেইন অফিস যেন আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে হয়।
পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চাহিদার কথা চিন্তা করে পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চল আধুনিক ও যুগোপযোগী এই মেগা প্রকল্পটি গ্রহণ করে। গতকাল একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি অনুমোদন দেন। এই প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুৎ ভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, আবাসিক ভবন, রেস্ট হাউজ, অফিস বিল্ডিংও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পিডিবির বিদ্যুৎ বিতরনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ২০৩৫ সালের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

x